মোহাম্মদ হোসেন সুমন:
মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রকৃত লোকালাইজেশন (স্থানীয়করণ) বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে উখিয়া উন্নয়ন ফোরাম।
সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে লোকালাইজেশন বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এর পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও স্থানীয় সংস্থাগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে লোকালাইজেশনের নামে সীমিত বা আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ দেখানো হচ্ছে। ফলে বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে।
এক বিবৃতিতে উখিয়া উন্নয়ন ফোরামের নেতারা বলেন, প্রকৃত লোকালাইজেশন বলতে শুধু সভা-সেমিনারে স্থানীয় সংস্থাগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো নয়। বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন, সক্ষমতা উন্নয়ন, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন এবং নেতৃত্বের সুযোগ নিশ্চিত করাই প্রকৃত লোকালাইজেশনের মূল উদ্দেশ্য।
বিবৃতিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দাতা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি লোকালাইজেশন বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্মানজনক ও সমঅংশীদারিত্বভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, অর্থায়ন ও সক্ষমতা উন্নয়নসহ নেতৃত্বের সুযোগে ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, স্থানীয় সুশীল সমাজ, কমিউনিটি সংগঠন, তরুণ সমাজ ও উন্নয়নকর্মীদের প্রকৃত ও অর্থবহ লোকালাইজেশন নিশ্চিত করতে শান্তিপূর্ণ, গঠনমূলক ও নীতিভিত্তিক জনমত গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অ্যাডভোকেসি ও গণআন্দোলন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, শক্তিশালী স্থানীয় নেতৃত্বই টেকসই মানবিক সহায়তা ও উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তাই লোকালাইজেশনের অঙ্গীকার যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন উখিয়া উন্নয়ন ফোরামের সহসভাপতি মোহাম্মদ হোসেন সিকদার এবং সাধারণ সম্পাদক খাইরুল আমিন।