হিলিতে হামলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ আহত ৪, বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

হাকিমপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের হিলিতে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। এ সময় বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ধরন্দা (ফকিরপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—ইছহাক আলী (৭৫), তাঁর দুই ছেলে ফারুক হোসেন (৫৫) ও ইমরান হোসেন (৪২) এবং ফারুক হোসেনের ছেলে ইনজামামুল হক ফাহিম (১৭)। তাঁদের মধ্যে ফাহিমের অবস্থা গুরুতর। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফাহিম বাংলাহিলি পাইলট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী এবং আগামী বছরের জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনায় ফারুক হোসেন বাদী হয়ে হাকিমপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—ধরন্দা গ্রামের মৃত সাজুর স্ত্রী মোছা. ঝর্ণা, তাঁর দুই ছেলে মো. সোহান ও মো. সিহাব, মো. আলমের স্ত্রী মোছা. আলেখা ও তাঁর দুই ছেলে মো. আলিম ও শাহিনুর, মো. আজাদের ছেলে মো. তাজু ও তাঁর স্ত্রী মোছা. নিলুফা এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার নিকুড়িহী গ্রামের মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. আনোয়ারা বেগম।

মামলার এজাহার, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফারুক হোসেনের মেয়ের জামাই এমএ মুন্না দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন। বিদেশ যাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আসামি সোহানসহ দুজন বিদেশ যাওয়ার জন্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেন। তবে সে সময় মালয়েশিয়ায় কলিং ভিসা চালু না থাকায় টাকা ফেরত চাইলে তাঁদের ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। বাকি টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে ফারুক হোসেনকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এমএ মুন্না মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। এরপর পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে বুধবার দুপুরে আসামিরা ফারুক হোসেনের বাড়িতে যান। সেখানে মুন্নাও উপস্থিত ছিলেন। টাকা পরিশোধের জন্য আরও কয়েক দিন সময় চাওয়া হলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে ফারুক হোসেনসহ পরিবারের চারজন আহত হন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ফারুক হোসেনের অভিযোগ, হামলার সময় তাঁর মেয়ের জামাইকে মারধর করে তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়। তাঁর ছেলে ফাহিমের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এ ছাড়া তাঁর বৃদ্ধ বাবা ও ভাইকেও মারধর করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তাঁর মেয়ের জামাইয়ের কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা এবং বাড়ি নির্মাণের কাজের জন্য রাখা ৫ লাখ টাকাসহ মোট ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইনসহ স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ফারুক হোসেন।

ফারুক হোসেন বলেন, হামলার পর আহত ছেলে ফাহিমকে প্রথমে দিনাজপুর নেওয়া হয়। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি নিজে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থানায় মামলা করতে যান। তাঁর দাবি, হামলার ভিডিও ও আহতদের চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখানোর পরও মামলা নিতে পুলিশ গড়িমসি করে এবং মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। পরে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পুলিশ মামলা রেকর্ড করে।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজা মিয়া বলেন, মামলা হয়েছে, তবে তিনি এখনো কাগজপত্র হাতে পাননি। কাগজপত্র পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে হাকিমপুর থানার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ওসি মাহফুজার রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলার তদন্তের দায়িত্ব এসআই সুজা মিয়াকে দেওয়া হয়েছে।

মামলা নিতে বিলম্বের বিষয়ে ওসি বলেন, থানায় সার্কেল ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে কিছুটা সমন্বয়ের প্রয়োজন হওয়ায় দেরি হয়েছে। বিরামপুর সার্কেল অফিসারের সঙ্গে কথা বলে মামলা নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *