১৬ শ’ ফলজ চারা বিতরণ শিক্ষার্থীদের মাঝে

মোঃআনজার শাহ

সবুজে ঘেরা নির্মল পরিবেশ, ফলজ বৃক্ষে সমৃদ্ধ জনপদ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে কুমিল্লার বরুড়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে ১৬০০ ফলজ গাছের চারা। উপজেলার দিগলগাঁও গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. সুমন আহমেদের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি ঘিরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

সম্প্রতি আয়োজিত এই চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছের চারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজাউল হক রেজু, শিলমুড়ি উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গাছ শুধু সৌন্দর্য নয়, ভবিষ্যতেরও নিশ্চয়তা:
কর্মসূচিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি বলেন, গাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, মানুষের জীবন ও পরিবেশ রক্ষায়ও রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। একটি গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অক্সিজেন, ফল ও ছায়ার পাশাপাশি একটি সুস্থ পরিবেশের নিশ্চয়তা তৈরি করে। শিক্ষার্থীদের হাতে ফলজ গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় গাছ লাগিয়ে সেগুলোর যত্ন নেয়, তাহলে ধীরে ধীরে গড়ে উঠবে একটি সবুজ ও সুন্দর সমাজ। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের উদ্যোগ কেবল একটি দিনের কর্মসূচি নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ পৃথিবী রেখে যাওয়ার প্রত্যয়।

স্থানীয়দের চোখে প্রশংসনীয় উদ্যোগ:
স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে ফলজ গাছের চারা তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি হবে, তেমনি অন্যদিকে বাড়বে ফলজ বৃক্ষের সংখ্যা। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এ ধরনের উদ্যোগ রাখবে ইতিবাচক ভূমিকা।

একটি চারা, একটি স্বপ্নের সূচনা:
উদ্যোক্তা মো. সুমন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাদের হাতে একটি করে ফলজ চারা তুলে দিয়ে গাছের প্রতি ভালোবাসা ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, একটি চারা আজ ছোট হলেও ভবিষ্যতে সেটিই হয়ে উঠতে পারে একটি পরিবারের ফলের উৎস, পথিকের ছায়া কিংবা প্রকৃতির নির্মলতার প্রতীক।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা চারাগুলো রোপণের পাশাপাশি এগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার ওপরও দেওয়া হবে বিশেষ গুরুত্ব। “গাছ বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, আর প্রকৃতি বাঁচলেই নিশ্চিত হবে নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ” এমন প্রত্যাশার মধ্য দিয়েই শেষ হয় দিনব্যাপী এই কর্মসূচি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *