নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রেমের সম্পর্কের জেরে টানা পাঁচ দিন অনশন করে বিয়ে করেছিলেন মুন্নি। কিন্তু সেই বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রেমিক জিহাদের সঙ্গে বিয়ের দাবিতে মুন্নি তাঁর বাড়িতে টানা পাঁচ দিন অনশন করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে গত ৩০ এপ্রিল ৯ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে মুন্নির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এ ঘটনায় এর আগেও গোপালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।
নিহতের মা রিনা বেগম অভিযোগ করেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জিহাদ তাঁর মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অনশনের পর বিয়ে হলেও নির্যাতনের অবসান হয়নি। একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত তার জীবন কেড়ে নিয়েছে।”
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।