মোঃআনজার শাহ
দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার (১৬ মে) কুমিল্লার বরুড়ায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর খেলার মাঠ। ভোর থেকেই মাঠে জমতে শুরু করেছে মানুষের ঢল। উৎসবের আমেজে মুখরিত গোটা বরুড়া।
সাজানো মঞ্চ, উৎসবমুখর পরিবেশ,
বেলা ১১টায় লক্ষ্মীপুর খেলার মাঠে ঐতিহাসিক এই পথসভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সুপরিচিত স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ সম্বলিত রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুনে সুসজ্জিত করা হয়েছে বিশাল সভামঞ্চ। মঞ্চের চারপাশে উৎসবের সাজসজ্জা যেন বলে দিচ্ছে বরুড়া আজ অন্য রকম এক আনন্দে ভাসছে।
তারেক রহমানকে একনজর দেখতে এবং তাঁর বক্তব্য সরাসরি শুনতে ভোর থেকেই দলে দলে মাঠে আসছেন হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক। শুধু বরুড়া নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও স্লোগান মুখে ছুটে আসছেন উৎসাহী জনতা।
শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে জমজমাট সভা,
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী এবং কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন এই পথসভায় সভাপতিত্ব করছেন। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এই জনস্রোত তারেক রহমানের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ’,
বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম বলেন, “দীর্ঘ ২৪ বছর পর আমাদের প্রিয় নেতা বরুড়ার মাটিতে আসছেন এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার নয়। মাঠে যে জনস্রোত দেখছেন, এটাই প্রমাণ করে তারেক রহমান বরুড়াবাসীর হৃদয়ে কতটা গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই জনসমুদ্র আরও বিশাল হবে।”
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বরুড়া আগমন উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক সভাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। জনগণের এই স্রোত আরও বাড়বে।”
বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দীর্ঘ ২৪ বছর পর আমাদের প্রিয় নেতা, আমাদের গর্ব তারেক রহমান আজ বরুড়ার মাটিতে পা রাখছেন। এই মুহূর্তটির জন্য বরুড়ার প্রতিটি মানুষ বুকের ভেতর স্বপ্ন লালন করে এসেছেন। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। এই আনন্দ কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
নিরাপত্তার চাদরে মোড়া গোটা বরুড়া,
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে সফল ও নিরাপদ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে গোটা এলাকা।”
ইতিহাসের পাতায় আজকের বরুড়া,
২৪ বছর পর একজন জাতীয় নেতার এই আগমন বরুড়ার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। লক্ষ্মীপুর মাঠের এই পথসভা শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয় এটি বরুড়াবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অপার ভালোবাসা আর প্রাণের আবেগের এক মিলনমেলা।