বস্ত্রশিল্পের সংকট মোকাবিলায় নীতিসহায়তার আশ্বাস রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বস্ত্রশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির ২২ সদস্যের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি এ আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বস্ত্র খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বস্ত্র খাতের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশের অর্থনীতিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় অর্থনীতির বিভিন্ন খাত পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে দেশের জ্বালানি সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সময়ে জ্বালানি সংকট বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। দেশের নিজস্ব গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধান ও আহরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার কথা জানান রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল দেশের অর্থনীতিতে বস্ত্রশিল্পের অবদান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বস্ত্রশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

এ সময় দেশীয় বস্ত্রকলকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন বিটিএমএ নেতারা। তারা ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *