ফয়স লেকের গেস্ট হাউসকে ঘিরে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের রমরমা ব্যবসা

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রাম মহানগরীর শান্ত-নিবিড় প্রকৃতির জন্য পরিচিত ফয়স লেক এলাকাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, মাদক সেবন ও মাদক বাণিজ্যের ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্ক। খুলশী থানার অধীনে থাকা এই পর্যটন এলাকাটি প্রতিদিন হাজারো মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলেও এর আড়ালে চলছে নিয়মিত অপরাধচক্রের উৎপাত ও অবাধ অবৈধ ব্যবসা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—ফয়সলেক গেস্ট হাউসসহ এলাকায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল আসলে ‘হোটেল’ নামের ছদ্মবেশে পরিচালিত হচ্ছে পতিতালয় হিসেবে। অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের জন্য এই গেস্ট হাউসগুলোই এখন অন্যতম নিরাপদ আশ্রয়স্থল। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব হোটেলে শুরু হয় ইয়াবা, গাঁজা সেবন, জুয়ার আসর এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফয়স লেক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী শামীম। তার চক্র বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা, গাঁজা সরবরাহ করা হয়। শুধু মাদক বিক্রিই নয়—তার নিয়ন্ত্রণে চলে পতিতাবৃত্তি, জুয়া ও নানা অপরাধ। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, “শামীমের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। পুলিশ প্রশাসনের চোখের সামনে সব কিছু ঘটলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।”

ফয়স লেক গেস্ট হাউসটিকে ঘিরে সরেজমিনে পাওয়া তথ্য আরও উদ্বেগজনক। প্রতিদিন নিয়মিতই এই গেস্ট হাউসে চলে মাদক সেবন এবং অসামাজিক কার্যকলাপ। আশপাশের বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে বাইরে থেকে আসা সন্দেহজনক লোকজন মাদকের চালান নিয়ে আসে এবং সেখান থেকেই শহরের বিভিন্ন স্পটে সরবরাহ করা হয়। অনেক সময় রাতে উচ্চ শব্দ, ঝামেলা ও অশান্তির কারণে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনও ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে খুলশী থানার ওসির মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও পুলিশি অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। তবে বাসিন্দারা জানান, বহুবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি—ফয়স লেকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও পর্যটনসমৃদ্ধ স্থানে অপরাধচক্রের জমজমাট ব্যবসা বন্ধ করতে হলে দ্রুত পুলিশের কঠোর অভিযান এবং স্থায়ী নজরদারি প্রয়োজন। না হলে অপরাধীরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং এলাকাটি সম্পূর্ণরূপে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *