ডেস্ক রিপোর্ট :
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন ধনিয়া বর্ণমালা স্কুলের বিপরীতে, বাইটুশ সালাম জামে মসজিদ রোডে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘স্বপ্ন টাওয়ার’ নামে পরিচিত ওই ভবনটি নির্মাণে কোনো ধরনের সরকারি নিয়ম-নীতি মানা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিএস ও এসএ ৮২০ নম্বর এবং আরএস ৯৯৮ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে নির্মিত এই ভবনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মোঃ ইমদাদুল হক, মোঃ মিজানুর রহমান সরকার, মোঃ আবু হানিফা, শামসুন্নাহার ও মাসুম মোহাম্মদ মাসুম। অভিযোগ রয়েছে, ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটিতে নির্ধারিত সেটব্যাক, পার্কিং ব্যবস্থা ও অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি মানা হয়নি। আশপাশের বাসিন্দারা জানান, ভবনটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় যেকোনো দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে ‘স্বপ্ন টাওয়ার’-এর কর্ণধার ও শিক্ষক মোঃ ইমদাদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে সাংবাদিকদের নম্বর সংগ্রহ করেন এবং পরে যোগাযোগ করা হবে বলে জানান। তবে পরবর্তীতে আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কে কাছাকাছি অন্তত পাঁচটি বহুতল ভবন রয়েছে, যার কোনোটিই রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়নি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—রাজউকের চোখের সামনে কীভাবে একের পর এক অবৈধ ভবন গড়ে উঠছে?
এ প্রসঙ্গে রাজউক জোন-৭–এর সাবেক অথরাইজড অফিসার শেখ মোঃ এহসানুল হক ইমামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এসব অবৈধ ভবন নির্মাণে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, তার সহযোগিতা ছাড়া এতগুলো নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ সম্ভব নয়।
এছাড়া, জোন-৭–এ দায়িত্বরত ইমারত পরিদর্শক মাসুদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তিনি সাবেক অথরাইজড কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে অবৈধ নির্মাণ বন্ধ না করে বরং তা প্রশ্রয় দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,
“রাজউকের লোকজন নিয়মিত এখানে আসতেন, কিন্তু কাজ বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। মনে হয় সবই টাকার খেল।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ নগর নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প কিংবা জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে এসব ভবন বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে রাজউকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী দ্রুত অবৈধ ভবনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও নির্মাণকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।