বায়েজীদ বিশ্ব কবরস্থান–আরফিন গেটে ‘বাম্পার গ্রুপ’-এর দাপট, জনজীবনে চরম আতঙ্ক

মোহাম্মদ সোহেল:

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন লিংক রোডের বিশ্ব কবরস্থান–আরফিন গেট এলাকায় ‘বাম্পার গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি সন্ত্রাসী চক্রের লাগাতার নির্যাতনে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি হামলা, লুটপাট, চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলা, মাদক ব্যবসা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও কৌশল বদল
এলাকায় অনুসন্ধানে জানা যায়, বাম্পার গ্রুপের সদস্যরা অতীতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রুফেল ও আজম নাছির গ্রুপের অনুসারী ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের আগ পর্যন্ত তাদের দাপটে সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি অবস্থায় ছিল। আন্দোলনের পর পরিস্থিতি বদলালেও তারা কৌশল পরিবর্তন করে প্রতিশোধমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে—একটির পর একটি মিথ্যা মামলা ও পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে।

চিহ্নিত অভিযুক্তরা
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে উঠে এসেছে—
বিলকিস আক্তার, মোহাম্মদ শরীফ, মোহাম্মদ ফয়সাল, সীমা বেগম, ইয়াসমিন বেগম, পারভিন বেগম ও শিল্পী বেগম—এই সাতজনসহ আরও অজ্ঞাত ১০–১৫ জন সক্রিয়ভাবে চক্রটির সঙ্গে জড়িত।

একাধিক মামলা, তবু গ্রেপ্তার নেই
এলাকাবাসীর দাবি, বাম্পার গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা থাকলেও তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। কিছুদিন আগে ‘ভাবলা’ নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায়ও এই চক্রের সংশ্লিষ্টতার কথা এলাকায় আলোচিত হচ্ছে।

রাজনীতি–প্রশাসনের ছায়া?
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের এসব কর্মীর সঙ্গে বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও প্রশাসনের একটি অংশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

মাদক সাম্রাজ্য ও পুলিশের নীরবতা
বিশ্ব কবরস্থান–আরফিন গেট এলাকায় প্রকাশ্যেই ইয়াবা, গাঁজা ও ‘বাংলা মদ’-এর রমরমা ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ। এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রশাসন সব জানলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এছাড়া বায়েজীদ থানার পুলিশের কিছু সদস্য নিয়মিত ‘সাপ্তাহিক চা-নাস্তার খরচ’ নেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। কিছু গণমাধ্যমকর্মীকে অর্থ দিয়ে নেতিবাচক সংবাদ বন্ধ রাখার কথাও বলছেন ভুক্তভোগীরা।

এলাকাবাসীর আর্তনাদ
এক ভুক্তভোগী বলেন,
“আমাদের ছেলে-মেয়েরা মাদকের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা মুখ খুললেই উল্টো মামলার ভয় দেখানো হয়। তাই চুপ থাকতে বাধ্য হচ্ছি।”
তাদের প্রশ্ন—
সংবাদকর্মী, প্রশাসন ও রাজনীতি যদি টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায়, তাহলে দেশ এগোবে কীভাবে?

দাবি
এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *