মাহমুদা আক্তার নাঈমা:
পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) শাখা ছাত্রশিবির ও খান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
গত রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৫) স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে জাককানইবির সকল শিক্ষার্থী খান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেকোনো পরীক্ষা বা সেবা গ্রহণ করলে ৪০% ছাড় পাবেন।
জাককানইবির পক্ষ থেকে এই সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ রিমন এবং খান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আবু ফয়সাল খান।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ রিমন বলেন,
“ছাত্রশিবির একটি শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন। শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই মূলত ছাত্রশিবির কাজ করে। শিক্ষার্থীদের কী সুবিধা দেওয়া যায়—এই চিন্তা থেকেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের কাজ করা উচিত’—এই প্রেরণা থেকেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব করছি এবং ভবিষ্যতেও করব।”
তিনি আরও জানান,
“আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ শহর থেকে দূরে। জরুরি মুহূর্তে রোগীকে ময়মনসিংহ শহরে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি হাসপাতালে অনেক সময় সব ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় না। সেই কারণেই আমরা আগে থেকেই চেষ্টা করছিলাম। দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় কিছুদিন দেরি হয়েছে। যাইহোক, অবশেষে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা এই হাসপাতাল থেকে সুবিধা নিতে পারবেন।”
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি এবং মোমেনশাহী মহানগর সেক্রেটারি সাআদ কবির, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোঃ রাসেল মিয়া।
মোঃ রাসেল মিয়া বলেন,
“বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাথার দান (মেডিক্যাল সেন্টার) থেকে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছে না। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবার জন্য ময়মনসিংহ শহরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য দূরত্ব ও সময়ের দিক থেকে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এখানে শিক্ষার্থীরা ৪০% ছাড়ে ভালো মানের স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও কমবে বলে আশা করি।”
সার্বিকভাবে ছাত্রশিবির প্রত্যাশা করছে, খান ডায়াগনস্টিক সেন্টার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছেই অবস্থান করছে। ফলে শিক্ষার্থীরা শহরে না গিয়েই উন্নত প্রযুক্তির মেশিনারিজের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে রোগ নির্ণয় করতে পারবে।