টাঙ্গাইল মধুপুরে আনারসের রাজ্যে এখন সূর্যমুখী ফুলের চাষ

মোঃ হাসান আলী:

টাঙ্গাইল মধুপুরে আনারসের রাজ্যে সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু হয়েছে। কম খরচে বেশি ফলন দেয় সূর্যমুখী। তৈলজাতীয় এই বীজ চাষ ভালো হওয়ায় টাঙ্গাইলের মধুপুরের কৃষক ও গ্রামবাংলার ফসলি জমি হাসছে সূর্যমুখীর কারণে। ভোর হলেই মিষ্টি রোদে ঝলমল করে ওঠে সূর্যমুখী ফুলগুলো। দেখে মনে হয়, সবুজ পাতার আড়াল থেকে মুখ উঁচু করে হাসছে সূর্যমুখী।

সূর্যমুখী দেখতে কিছুটা সূর্যের মতো। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলে এ ফুলের নাম সূর্যমুখী। বাগানে প্রায় প্রতিদিন বসে প্রজাপতি আর মৌমাছির মেলা। নয়ন জুড়ানো এ দৃশ্যে খুশি হয়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি মোহিত করছে ফুলপ্রেমী মানুষকেও।

সূর্যমুখী শুধু দেখতেও সুন্দর নয়, এতে রয়েছে অনেক গুণাগুণ। বাজারেও এর ব্যাপক চাহিদা আছে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় মধুপুরে চাষ হয়েছে তৈলজাতীয় এই ফসল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গতবারের মতো এবারও সূর্যমুখীর ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। এছাড়া বর্তমানে আকাশছোঁয়া তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ভোজ্য তেলের চাহিদাও পূরণ করবে এই হাইব্রিড জাতের সূর্যমুখী। কম খরচে বেশি ফলন হওয়ায় দিন দিন কৃষকের মধ্যে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

মহিষমারা ইউনিয়নের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন জানান, “আমি এ বছর দুই বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে সময় কম লাগে। অল্প সময়ে ফসল পাওয়া যায়। লাভ অনেক বেশি। সরিষা ও সয়াবিনের তেলের তুলনায় সূর্যমুখীর তেলে অনেক পুষ্টিগুণ আছে। প্রতিদিন অনেক ফুলপ্রেমী আমার বাগান দেখতে আসে। আগামীতে আরও বেশি করে সূর্যমুখী চাষ করবো।”

প্রভাষক শহিদুল ইসলাম জানান, “কলেজের পাশেই সানোয়ার ভাইয়ের সূর্যমুখী ফুলের বাগান। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে আমি বাগানে ঘুরতে আসি। বাগানে প্রচুর ফুল ফুটেছে। দেখতে খুব ভালো লাগে। আমি সহ আরও কলেজের শিক্ষকরাও ঘুরতে আসি।”

মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সূর্যমুখী ফুলে শতকরা ৯৯ ভাগ উপকারী ফ্যাট আছে। এতে রয়েছে মানবদেহের জন্য উপকারী ওমেগা-৬, ওমেগা-৯ অ্যালিক অ্যাসিড, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও মিনারেল। সরিষা ও সয়াবিনের তুলনায় সূর্যমুখীর তেলে অসংশ্লিষ্ট ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ কম।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, “চলতি মৌসুমে মধুপুরে পাহাড়ী ইউনিয়নগুলোতে বেশি সূর্যমুখী চাষ হচ্ছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ১৮ হেক্টর, এবছর উৎপাদন হয়েছে ২৫ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের চেয়ে ৬ হেক্টর বেশি। মধুপুর উপজেলায় মোট ৪৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। সূর্যমুখী ফুলের তেল অন্যান্য তেলের তুলনায় অনেক পুষ্টিসমৃদ্ধ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *