মোঃ আনজার শাহ:
দুই দশকের দীর্ঘ বিরতির পর কুমিল্লার মাটিতে পা রাখলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় গত ২৫ জানুয়ারি জেলার তিনটি ভিন্ন স্থানে জনসভা করবেন তিনি। ২০০৫ সালের পর প্রথমবারের মতো কুমিল্লায় সরাসরি উপস্থিত হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা।
তিন উপজেলায় পৃথক জনসভা
চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ এবং দাউদকান্দি উপজেলায় আয়োজিত তিনটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ফেনী হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টায় চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে তার প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সুয়াগাজী ফুলতলী ডিগবাজী মাঠে এবং সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জনসভা সম্পন্ন করে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফিরবেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে তারেক রহমান সারাদেশে ধারাবাহিক জনসভা ও জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গত ২২ জানুয়ারি সিলেট বিভাগ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ করেন তিনি। পরদিন ২৩ জানুয়ারি নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনে জনসংযোগ ও সমাবেশে অংশ নেন। গত রাতে চট্টগ্রাম পৌঁছে আজ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এবং কুমিল্লায় সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন বিএনপি প্রধান।
উৎসবমুখর পরিবেশে প্রস্তুতি
দলীয় শীর্ষ নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা জুড়ে উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছে। জেলা ও উপজেলা বিএনপিসহ দলের সহযোগী সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সমাবেশ মাঠগুলোতে মঞ্চ নির্মাণ, সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন, গাড়ি পার্কিংসহ সব ধরনের আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম (ভিপি) বলেন, “বিএনপি শীর্ষ নেতার আগমনকে ঘিরে জেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সমাবেশ সাফল্যে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হবে।”
নেতা-কর্মীদের উদ্দীপনা
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। গতকাল সকাল থেকেই সুয়াগাজী সমাবেশ মাঠে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সমাবেশ স্থলে কথা হয় সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুর রাজ্জাক টিটোর সঙ্গে। তিনি জানান, “ছাত্র জীবনে আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। বর্তমানে গ্রিস প্রবাসী হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিয় দল বিএনপির পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে দেশে এসেছি।”
উপস্থিত নেতা-কর্মীরা জানান, তারেক রহমানকে চোখের সামনে এক নজর দেখার এবং তার সঙ্গে হাত মেলানোর জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তাদের বিশ্বাস, এই সফর দলীয় সাংগঠনিক ঐক্যকে আরও দৃঢ় করবে এবং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “তারেক রহমানের এই সফর শুধু কুমিল্লা নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘদিন পর সরাসরি দলীয় প্রধানের উপস্থিতি দলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করবে।”
তিনি জানান, সমাবেশ সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে। কয়েক লাখ নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন তারা।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
২০০৫ সালে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সমাবেশে সর্বশেষ কুমিল্লায় এসেছিলেন তারেক রহমান। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর কেটে গেছে। এই দীর্ঘ বিরতির পর তার কুমিল্লায় প্রত্যাবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলীয় প্রধানের সরাসরি উপস্থিতি বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। কুমিল্লাসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিএনপির ঐতিহ্যগত শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে এবং তারেক রহমানের এই সফর সেই ভিত্তিকে আরও মজবুত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।