ঢাকা–৫ আসনে বিএনপির গণসংযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিকল্পিত নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি নবী উল্লাহ নবীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা–৫ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ নবী উল্লাহ নবী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ডেমরা থানার মাতুয়াইল এলাকার মুজাহিদ নগর, হাবিব নগর ও তুষারধারা এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন, লিফলেট বিতরণ করেন এবং একাধিক নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন।

গণসংযোগকালে নবী উল্লাহ নবী স্থানীয় বাসিন্দাদের নিকট থেকে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা, চাহিদা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগসহকারে শোনেন। এলাকাবাসী জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, স্বাস্থ্যসেবা ও খেলাধুলার সুযোগের অভাবসহ নানা সমস্যা তুলে ধরেন।

এ সময় নবী উল্লাহ নবী বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে জনগণের ভোটে সরকার গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাবে। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। জনগণের অধিকার রক্ষা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”

ঢাকা–৫ আসনের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই এলাকায় বহু উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। নির্বাচিত হলে এসব উন্নয়ন প্রকল্প অগ্রাধিকারভিত্তিতে দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ডেমরা এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই এ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং একটি সমন্বিত পানি নিষ্কাশন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নবী উল্লাহ নবী আরও বলেন, তার লক্ষ্য ডেমরা ও ঢাকা–৫ আসনকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তর করা। এ লক্ষ্যে তার উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, শিশুদের জন্য আধুনিক শিশু পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ, স্থানীয় জনগণের জন্য কমিউনিটি সেন্টার স্থাপন এবং নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা।

গণসংযোগ ও পথসভায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *