মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উন্নয়নের প্রচলিত স্লোগান ভেঙে এক ভিন্নধর্মী, বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) মনোনীত প্রার্থী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী।
‘প্রতিশ্রুতি নয়, প্রতিফলে বিশ্বাসী’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে তিনি একটি মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছেন।
নির্বাচনী ইশতেহারে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রতিটি ইউনিয়নকে আধুনিক নাগরিক সেবার আওতায় আনার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ডিজিটাল ইউনিয়ন বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মৌলিক সংস্কার, শ্রমিক কল্যাণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং নিরাপদ নারায়ণগঞ্জ গড়ার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
ইশতেহার অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়নে কাঁচা ও ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নদী-খাল পরিষ্কারের মাধ্যমে টেকসই অবকাঠামো নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ‘ডিজিটাল ইউনিয়ন’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্রি ওয়াই-ফাই হটস্পট, অনলাইন শিক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে মোহাম্মদ আলীর প্রতিশ্রুতি তুলনামূলকভাবে সাহসী ও সুদূরপ্রসারী। প্রতিটি ইউনিয়নে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন, নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই ইশতেহারে।
শিক্ষা খাতে প্রতিটি স্কুল ও মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পিছিয়ে পড়া এলাকার জন্য বিশেষ বরাদ্দ, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজ গঠনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়।
শ্রমিক অধ্যুষিত এই এলাকায় শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ‘শ্রমিক হাসপাতাল’ নির্মাণ, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে বেতন পরিশোধ বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার রয়েছে ইশতেহারে। পাশাপাশি প্রবাসীদের কল্যাণ ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে ‘প্রবাসী সেল’ গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
ইশতেহারের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো ‘হাতের নাগালে জনপ্রতিনিধি’ ধারণা। নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যেই সংসদ সদস্যের প্রধান কার্যালয় এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-কার্যালয় চালু, অভিযোগ বক্স, ই-হেল্প ডেস্ক ও অনলাইন যোগাযোগ নম্বরের মাধ্যমে সরাসরি জনসংযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোহাম্মদ আলী।
ইশতেহারের শেষাংশে তিনি বলেন,
“আমি ক্ষমতার রাজনীতি করতে আসিনি। জনগণের কণ্ঠস্বর হতে চাই। আপনার সমস্যা, আপনার দাবিই হবে আমার রাজনীতি।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ভোটারদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান—উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নের বিশ্বাসে **হাতি মার্কায়** ভোট দেওয়ার।