স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “একটি মহল ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে কীভাবে এই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়। কিন্তু জনগণ সজাগ থাকলে সব ষড়যন্ত্র নসাৎ হয়ে যাবে।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় ২২ বছর পর রাজশাহীর এই ময়দানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেন তিনি।
‘১২ তারিখের পর শুরু হবে জনগণের জয়যাত্রা’
তারেক রহমান বলেন, “আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করলে ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন। ইনশাআল্লাহ, সেদিন থেকে মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের কাজ আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে শুরু করব।” তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের এই মিছিলে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা: কৃষি ও কর্মসংস্থান
জনসভায় তারেক রহমান তার সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন:
-
কৃষি ও কৃষক: কৃষক ভাইদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তন এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঘোষণা দেন তিনি।
-
ফ্যামিলি কার্ড: সাধারণ মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
-
পদ্মা ব্যারেজ: উত্তরবঙ্গের পানির সমস্যা সমাধানে দীর্ঘদিনের দাবি ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের কাজ শুরু করার অঙ্গীকার করেন।
-
কর্মসংস্থান: বেকার যুবকদের জন্য আইটি পার্ক সচল করা এবং উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলেন।
প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া
বক্তব্য শেষে তারেক রহমান রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেন। প্রার্থীদের হাতে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক তুলে দিয়ে তিনি বলেন, “এখন আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে ১২ তারিখ পর্যন্ত এই প্রার্থীদের দেখে রাখা। আর আপনারা যখন এদের জিতিয়ে আনবেন, ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের দেখে রাখার দায়িত্ব হবে এই জনপ্রতিনিধিদের।”
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে জনসভাটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। সকাল থেকেই রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে থাকেন, যা দুপুরের মধ্যেই এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।