বারহাট্টায় প্রতারক গিয়াস উদ্দিনের অপকর্মে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নাছিমা খাতুন সুলতানা:

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের কান্দাপাড়া পূর্ব পাড়া গ্রামে জমি জালিয়াতি, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত মোঃ গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। মৃত আব্দুল শেখের ছেলে এই গিয়াস উদ্দিনের অব্যাহত অপকর্মে স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন দিশেহারা।

ঘটনার সূত্রপাত: এক জমি দুইবার বিক্রি

প্রাপ্ত তথ্য ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে গিয়াস উদ্দিন একই গ্রামের মৃত পশর আলীর ছেলে মোঃ রফিজ মিয়ার কাছে ৪৫ শতাংশ জমি সাফ কাওলা মূলে বিক্রি করেন। বিক্রির পর থেকে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রফিজ মিয়া ও তার পরিবার ওই জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে কৃষি চাষাবাদ করে আসছিলেন।

কিন্তু সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে যে, উক্ত জমিটি বিক্রির বিষয়টি গোপন রেখে গিয়াস উদ্দিন অনেক আগেই কৌশলে তার স্ত্রীর নামে অন্য একটি দলিল করে রেখেছিলেন। একই জমি দুইবার হস্তান্তর এবং তথ্য গোপনের এই ঘটনাকে গ্রামবাসী একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা হিসেবে দেখছেন।

জনকল্যাণমূলক কাজে বাধা ও চাঁদাবাজি

সম্প্রতি গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে গ্রামের একটি কাঁচা রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়। রাস্তার কাজ গিয়াস উদ্দিনের বিক্রি করা ওই জমির কাছে পৌঁছালে হঠাৎ বাধা সৃষ্টি করেন গিয়াস উদ্দিন ও তার অনুসারীরা। তারা রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন এবং কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য গ্রামবাসীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গিয়াস উদ্দিন তার স্ত্রীর নামে রাখা সেই গোপন দলিল সামনে এনে মালিকানা দাবি করেন এবং জনস্বার্থে নির্মিত রাস্তার অংশবিশেষ কেটে ফেলেন।

গ্রামবাসীর ক্ষোভ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ

গিয়াস উদ্দিনের এমন কর্মকাণ্ডে পুরো গ্রাম জুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী তাকে “প্রতারক, পরধন লোভী ও চাঁদাবাজ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, গিয়াস উদ্দিন আইনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিরীহ মানুষদের হয়রানি করছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, “আমরা ন্যায্যমূল্যে জমি কিনে ৩০ বছর ভোগদখল করছি, এখন হঠাৎ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং গ্রামের উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”

এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেছেন কান্দাপাড়া পূর্ব পাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *