আবদুল আজিজ:
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের পাশে অবস্থিত মা-শিশু জেনারেল হাসপাতাল ভবনের ভাড়ার মেয়াদ শেষ হলেও মালিকপক্ষকে ভবন বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর কেরানীহাটের আল-আকসা রেস্টুরেন্ট হলরুমে জমিদার বদিউল আলমের পক্ষে তার ছেলে সাইফুল আলম সাংবাদিকদের সামনে এই লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ‘হাবিয়া খাতুন কমপ্লেক্স’-এর দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত গত ০১/০১/২০১৬ থেকে ০১/০১/২০২৬ পর্যন্ত ১০ বছরের মেয়াদে ওচমান আলী, শহীদুল ইসলাম বাবর ও আজিজুল হককে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।
চুক্তির শর্ত ছিল নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে ভবনটি খালি অবস্থায় বুঝিয়ে দিতে হবে। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ৬ মাস আগে থেকেই নোটিশ দিয়ে জানানো সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ভবনটি জবরদখল করে আছে এবং খালি করতে বিভিন্ন তালবাহানা করছে।
সাইফুল আলম সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করেন যে, গত ০২/০১/২০২৬ তারিখে ভবন খালি করার বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্তরা উল্টো মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও ‘মব’ সৃষ্টির বানোয়াট অভিযোগ সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পে প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এছাড়া অভিযুক্তরা ইতিপূর্বে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভবনের জমি নিজেদের নামে খতিয়ান করে নিলেও পরবর্তীতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মালিকপক্ষ তা উদ্ধার করে।
অভিযোগ করা হয় যে, অভিযুক্ত ওচমান আলী বিগত সরকারের সময় প্রভাবশালী পদে ছিলেন এবং তার অনুসারী আজিজ বর্তমানে একাধিক জালিয়াতির মামলার আসামি। গত ২৮/০১/২০২৬ তারিখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মালিকপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করে, যেখানে ইট-বালু দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। মালিকপক্ষ জানান, ওই নির্মাণ সামগ্রী মূলত ভবনের উন্নয়ন কাজের জন্য আনা হয়েছিল। পরিশেষে, প্রশাসনের নিকট দ্রুত চুক্তি অনুযায়ী ভবনটি খালি অবস্থায় বুঝে পাওয়ার জন্য জোর দাবি জানানো হয়।