মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন এনায়েতনগর ইউনিয়নের হরিহরপাড়া ও শ্রীধরদী মৌজায় অবস্থিত কল্যাণী খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে খালের বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকায় পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল, ফলে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ প্রেক্ষাপটে খালের সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে তদন্ত করে জানা যায়, হরিহরপাড়া ও শ্রীধরদী মৌজার আরএস ৪৪৯ ও ৩৪৪ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে অবৈধ দখলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার ফুট দৈর্ঘ্যজুড়ে খালের সীমানা নির্ধারণ করেছে এবং অবৈধ দখলদারদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে উপজেলাকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে সম্প্রতি খালটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিন। পরিদর্শনকালে তিনি খালের বিভিন্ন অংশে অবৈধ দখল ও স্থাপনা দেখতে পান। এ অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ফতুল্লা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান নূরকে খালের প্রকৃত সীমানা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত দখলমুক্ত করে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও কৃষি জমি সুরক্ষায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খাল ও সরকারি জলাধার দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের দাবি, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করেই আইন প্রয়োগ করা হবে।