সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত ওসি-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ফোনালাপ এডিট করে ছড়ানোর প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোর্টার:

প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা, সাতকানিয়ায় গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা। সাতকানিয়ায় অপপ্রচারের মুখে প্রশাসন—ভয়েস রেকর্ডটি ‘কাটছাঁট’ করা হয়েছে বলে দাবি!

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান এবং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভয়েস রেকর্ডকে কেন্দ্র করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ফোনালাপ ‘কাটছাঁট’ করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১২টায় ‘Saviour of Chattogram’ নামক একটি ফেক ফেসবুক আইডি থেকে একটি কল রেকর্ড ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই রেকর্ডে ১০ নং কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান তার এক সহযোগীর সঙ্গে চায়ের দোকানে আলাপকালে ইউএনও ও ওসির বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগটি আলাপের সময় তার বন্ধু রেকর্ড করে এবং কাটছাঁট করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে। কাটছাঁট করা ভয়েস রাশেদ খানের কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কণ্ঠ আমার হলেও হুবহু—এমনটি শোনা যায়।

তবে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সকলেই এটিকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ এবং ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন। ঘটনার পর রাশেদ খান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, একটি কুচক্রী মহল আমার ফোনালাপ কাটছাঁট করে নোংরা স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। ভয়েসে ইউএনও এবং ওসি’র নামে যে অংশটুকু শোনা যাচ্ছে, তা সম্পূর্ণ এডিট করা। প্রকৃত কথোপকথনে অভিযুক্তদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

আমার আলাপ-আলোচনা খণ্ড-বিখণ্ড করে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। আমি এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। উক্ত বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, আমাদের স্বচ্ছ কার্যক্রম ও অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই অপপ্রচার। রেকর্ডিংয়ের কোথাও উপজেলা প্রশাসন সুবিধা নিয়েছে এমন কিছুই বলতে শোনা যায়নি, তবুও ইউএনও’র ছবি এডিট করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। যদি প্রশাসন টাকা নিয়ে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান কেন চালানো হলো? মূলত সুবিধা নিতে না পেরে তারা এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং পরিবেশ রক্ষায় আমাদের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অপশক্তিই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব থেকে সরাতে পারবে না। দৈনিক স্বাধীন সংবাদ-এর প্রতিনিধি হোয়াটসঅ্যাপে ইউএনও’র কাছে জানতে চাইলে তিনি যেভাবে হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস জানিয়েছেন হুবহু তুলে ধরা হলো— (খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের দেওয়া মেসেজ: এই অডিওর কোনো জায়গাতে বলা আছে ইউএনও কোনো টাকা নিয়েছে? এই অডিওতে কার বিষয়ে বলা হয়েছে, যে বলেছে তাকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাবেন) সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডটি আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি, এটি সম্পূর্ণ এডিট করা। অনৈতিক সুবিধা করতে না পেরে তারা গুজব ছড়াচ্ছে। যে আইডি থেকে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তাকে শনাক্ত করতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। সাতকানিয়া সচেতন এলাকাবাসীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়ায় পাহাড় কাটা ও অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ইউএনও ও ওসির কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসংখ্য স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রশাসন যখন ভালো কাজ করে, তখন একটি মহল তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করে। আমরা প্রশাসনের এই সৎ ও সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই এবং সর্বক্ষণ সাথে আছি ও থাকবো।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের সাইবার অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মঞ্জুরুল আলমের নিকট ফোনে আরও জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফেক ফেসবুকে এডিটিং—এটা কী বলব? তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *