মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
ফতুল্লায় মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাবার ওপর দা দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে সালমান (২০) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হামলায় আহত বাবা কামাল মিয়া (৪৫) বর্তমানে ঢাকার ধানমন্ডিস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার ভুইগড় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স-মিল গলি এলাকায়। পরদিন বুধবার (৩ জুন) দুপুরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সালমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামাল মিয়া ও তার ছেলে সালমান ভুইগড় বাজার এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সালমান একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য তার বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মোবাইল কিনে দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন কামাল মিয়া। এ নিয়ে মঙ্গলবার রাতে বাবা-ছেলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সালমান ঘরে থাকা একটি দা দিয়ে তার বাবার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে কামাল মিয়ার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ধানমন্ডিস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সালমানকে গ্রেফতার করে এবং হামলায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, মোবাইল ফোন কেনাকে কেন্দ্র করে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের বরাতে তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত যুবক মাদকাসক্ত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।