মোহাম্মদ সোহেল রানা:
রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১ জুন) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন পেয়ে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পল্লবী থানা পুলিশ। পরে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের ধারণা, মরদেহ উদ্ধারের অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরে যায়। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম মিরপুরের ওই বাসায় তার মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে মেয়ে আলাদা কক্ষে বসবাস করতেন।
বেশ কিছুদিন মায়ের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রবিবার একজন নার্সকে ডেকে আনেন মেয়ে। পরে ওই নার্স কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে লাশ উদ্ধার করা হয়। ওসি বলেন, “বৃদ্ধার মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তার মেয়ের দেওয়া তথ্য আমাদের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। তিনি মৃত্যুর সঠিক সময়ও বলতে পারেননি। তাই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান। পুলিশ জানায়, বৃদ্ধা যে কক্ষে থাকতেন সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো এবং আবর্জনাপূর্ণ। কক্ষের পরিবেশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চরম অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে ছিলেন।
তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলেই সমাজে উচ্চপদস্থ। তাদের একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডায় অবস্থান করছেন। তবে তারা মায়ের সঙ্গে থাকতেন না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত এক সপ্তাহ আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।