মাদারীপুরে বিয়ের ৬ মাস পর স্ত্রীকে ফেলে পালালেন স্বামী_ন্যায় বিচারের আশায় আদালতে মামলা

 

স্টাফ রিপোর্টার :শরীফুল ইসলাম

মাদারীপুরের ডাসারে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ের ছয় মাস পর স্ত্রীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ন্যায় বিচারের আশায় ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ​অভিযুক্ত যুবক তামিম বেপারী (২১)। মাদারীপুর সদর উপজেলার কাজিবাকাই ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার আব্দুল জয়নাল বেপারীর ছেলে। ভুক্তভোগী একই এলাকার আব্দুল ছাত্তার মিয়ার মেয়ে শারমিন (৩১) এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তামিম বেপারী।

একপর্যায়ে তারা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী এবং রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে তারা বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তারা ঢাকার মিরপুরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস শুরু করেন।

​সংসার চলাকালীন বিয়ের ছয় মাস পার না হতেই তামিম তার স্ত্রীকে না জানিয়ে গোপনে গ্রামের বাড়িতে পালিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীর সন্ধানে এলাকায় ফিরে আসেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও অভিযুক্ত স্বামী তাতে সাড়া দেননি।

​স্থানীয়ভাবে কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী ওই নারী আদালতের দ্বারস্থ হন এবং অভিযুক্ত তামিম বেপারীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এবিষয়ে ভূক্তভূগী নারী শারমিন আক্তার বলেন, আমি পটুয়াখালী জেলার এক যুবকের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর তার সাথে বনিবনা না হওয়ায় আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। এরপর একই এলাকার তামিম নামে আমার এক দূর সম্পর্কের খালাতো ভাই আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।

আমি তার প্রস্তাবে সাড়া না দিলে সে আত্মহত্যা করার ভয় দেখিয়ে আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলেন। পরে এক পর্যায়ে তামিম আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে মাদারীপুর কোর্টে নিয়ে এক লাখ টাকা মোহরানা নির্ধারণ করে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে করে।

তার পর থেকে আমরা দুজন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঢাকার মিরপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করি। কিন্তু বিয়ের ছয় মাস পার হতে না হতেই তামিম আমাকে ফেলে পালিয়ে দেশের বাড়িতে চলে যায়।

আমি পরে আমার সাথে থাকার কথা বললে সে সাফ জানিয়ে দেয়, সে আমাকে আর পছন্দ করে না এবং আমার সাথে সংসার করবে না। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। আমি নিরুপায় হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত তামিমের বাবা জয়নাল বেপারী জানান, আমার ছেলে পরিবারের অমতে নিজের পছন্দ অনুযায়ী এই মেয়েকে বিয়ে করেছে। এখন সে বলছে মেয়েটিকে তার আর ভালো লাগে না, তাই সে আর সংসার করতে ইচ্ছুক নয়। এছাড়া এই বিষয়ে আমার আর কোনো মন্তব্য নেই।

এবিষয়ে ইউপি সদস্য অজেদ বেপারী বলেন, আমরা স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করার চেষ্টা করছি কিন্তু ছেলে এবং তাদের পরিবার ওই মেয়েকে নিতে রাজি না,তাই মেয়ের পক্ষ ন্যায় বিচারের জন্য আদালতে মামলা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *