রাজউকের ইমারত আইন অমান্য করে কাজলার সামাদনগরে ‘ভিশন হিলস’ নামে ১১ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাজলার সামাদনগর এলাকায় রাজউকের ইমারত বিধিমালা উপেক্ষা করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ‘রিয়েল ভিশন গ্রুপ’-এর উদ্যোগে নির্মিত ‘ভিশন হিলস’ নামের ১১ তলা ভবনটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবনটির নির্মাণকাজে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও ইমারত বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাদের দাবি, ঢাকার ভেতরে ১০ তলা বা তার বেশি উচ্চতার ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে চারপাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ খোলা জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক হলেও এই ভবনের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। ফলে ভবনটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠায় আলো-বাতাস চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

এছাড়া স্থানীয়দের আরেকটি অভিযোগ হলো, পর্যাপ্ত খোলা জায়গা না রেখে ভবনটি নির্মাণ করায় অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে। তারা বলছেন, নির্মাণকাজের সময় নিরাপত্তা বিধি ও সেফটি প্রটোকলও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ আরও গুরুতর আকার নেয় যখন তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তদারকির ঘাটতি ও যোগসাজশে প্রভাবশালী মহল এই ধরনের নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ভবনটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভিশন হিলস’ কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ভবন নির্মাণ আইন ও রাজউকের অনুমোদন অনুযায়ীই কাজ চলছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “জনগণের দুর্ভোগ বা ভবন নির্মাণ নিয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। রাজউক সবকিছু দেখাশোনা করছে। এ বিষয়ে আমরা আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে এবং প্রভাবশালী মহলের শক্তির জোরে অবৈধভাবে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ‘ভিশন হিলস’ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ বা আমাদের এই ভবন দেখার জন্য রাজউক আছে। আপনি কে ভাই? আপনার যা মনে চায় করতে পারেন। রাজউকের অনেক বড় বড় অফিসার এতে জড়িত আছে—আপনার যা মনে চায় লিখেন, কিছুই করতে পারবেন না।”

এদিকে রাজউক জোন-৬/১-এর ইমারত পরিদর্শক শামীমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

কথিত আছে, ইমারত পরিদর্শক শামীমের ইশারায় কাজলার নতুন এলাকায় একের পর এক উচ্চ ভবন গড়ে উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভবনের অধিকাংশই তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রভাবের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ভবন মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে তিনি অবৈধ ভবনের অনুমোদন দিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকের তদারকিতে এলাকাটিতে একের পর এক বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই অনিয়মের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব বিষয়ে এখনো রাজউক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত, অনিয়মের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা না হলে ভবিষ্যতে এলাকায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আরও তথ্য অনুসন্ধান করা হবে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *