শাপলা চত্বর’ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্ত শেষ, চলতি মাসেই প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত প্রতিবেদনের চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

বুধবার (৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলেও বর্তমানে প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। আদালতের অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামী ২১ জুলাইয়ের পর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আকারে তা ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনা হবে। শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পরই আসামিদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গত ৭ জুন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন নয়জন। তারা হলেন— সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় মোট ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজনের পরিচয় তদন্ত সংস্থা শনাক্ত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *