আরিচা বন্দরে ইজারাদারের বিরুদ্ধে টোলের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

মানিকগঞ্জের আরিচা নদীবন্দর এলাকায় টোল আদায়ের ইজারা নিয়ে শর্ত ভঙ্গ এবং নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুবিন ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে। নৌপথে গরু-ছাগল পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পাশাপাশি সড়কপথেও বিভিন্নভাবে জোরপূর্বক অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা নদীবন্দর এলাকায় ট্রলারযোগে গরু ও ছাগল পরিবহনের ক্ষেত্রে টোলের হার নির্ধারণ করে দিয়েছে। নির্ধারিত হার অনুযায়ী প্রতিটি ছাগলের জন্য ১০ টাকা এবং প্রতিটি গরুর জন্য ৩০ টাকা টোল নেওয়ার কথা। তবে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত হারের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নির্ধারিত টোল আদায়ের বাইরে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। কেউ নির্ধারিত হারে অর্থ দিতে চাইলে তাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে নৌপথে গবাদিপশু পরিবহনকারী ব্যবসায়ী, খামারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুবিন ট্রেডার্সের লোকজন শুধু নৌপথেই নয়, সড়কপথেও বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক অর্থ নেওয়া হচ্ছে। এভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে আরিচা সেক্টরের বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার সুব্রত রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত টোল আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তাকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তিনি ইজারাদারের অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আরিচা সেক্টরের পোর্ট অফিসার সুব্রত রায় নিয়মিত কর্মস্থলে না থেকে হরিরামপুর এলাকায় বেশি সময় ব্যয় করেন। এ কারণে আরিচা নদীবন্দর এলাকায় ইজারাদারের টোল আদায় কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর এক কর্মকর্তা বলেন, নদীবন্দর এলাকায় ইজারা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত ও টোলের হার যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। কোনো ইজারাদার নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা সেক্টরের পোর্ট অফিসার সুব্রত রায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুবিন ট্রেডার্সের সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আরিচা নদীবন্দর এলাকায় টোল আদায়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। নির্ধারিত টোলের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, নদীবন্দর ও সড়কপথে গবাদিপশু পরিবহনকারীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায় করা হলে একদিকে যেমন সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, অন্যদিকে সরকারের ইজারা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। তাই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *