মোঃআনজার শাহ
প্রত্যাশা অনুযায়ীই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ দুপুরের পর জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজই নির্বাচন কমিশনে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে তিনিই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, এমনটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মনোনয়নপত্র জমার সময়সূচি:
আজ বিকেল চারটার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত রয়েছে। এরপর হবে যাচাই-বাছাই। আগামী ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। প্রত্যাহারের পর একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট সংসদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে আপত্তি নেই এমন অঙ্গীকারনামায় ইতিমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন মির্জা ফখরুল, যা নির্বাচনী আইনি প্রক্রিয়ার একটি অংশ।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি ভোট হতে যাচ্ছে।
তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে শূন্যতা:
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দল ও সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। শিগগিরই ছাড়বেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদও। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সংসদ সচিবালয় তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য ঘোষণা করবে, যার ফলে সেখানে অনুষ্ঠিত হবে উপনির্বাচন।
দলীয় সূত্র জানায়, মহাসচিব পদে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দুজন নেতার নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা:
২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন মির্জা ফখরুল। পরে ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের এই পথচলায় তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব ও তারেক রহমানের লন্ডন-নির্বাসনের সময় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এ সময় ছয়বার কারাবরণ করলেও নানা প্রতিকূলতার মুখে দৃঢ়তার সঙ্গে দলের নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতিতে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট:
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
সংবিধানের ৫০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন এবং কেউ দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন না। এ ছাড়া সংবিধানের ৫৬(১) ও ৪৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিসভার কোনো পদে বহাল থাকার সুযোগ থাকে না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সংসদ সদস্য পদেও কেউ বহাল থাকতে পারেন না বলে সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, অতীতে আবদুর রহমান বিশ্বাস ও আবদুল হামিদসহ কয়েকজন নেতা স্পিকার বা মন্ত্রিসভা থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে পূর্বের পদ ত্যাগ করেছিলেন।