আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ইরান অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক পুনরায় কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার রাজধানী তেহরানে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, “ইরান চিরদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে না। ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’—এই নীতি থেকে একদিন আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে। দেশকে রক্ষার স্বার্থেই আমাদের তা করতে হবে।”
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা সংকট সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে। সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যে সমঝোতা হয়েছিল, সেটি পুনরায় কার্যকর করা গেলে সম্মানজনক ও যৌক্তিক উপায়ে সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলাম। এই চুক্তিই সংকট সমাধানের সবচেয়ে ভালো পথ। যারা সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এ চুক্তি সম্পন্ন করেছিলেন, তারাও মনে করেন—এটি ফের কার্যকর হলে সমস্যাগুলোর সম্মানজনক ও যৌক্তিক সমাধান সম্ভব।”
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ৬০ দিনের মেয়াদের ওই সমঝোতাকে দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা একটি স্থায়ী চুক্তির খসড়া তৈরি করে তাতে স্বাক্ষর করবেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগ তুলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইরান সমঝোতা থেকে সরে যায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত আরও বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের প্রশ্নে ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের কট্টরপন্থি অংশের অনড় অবস্থানেরও সমালোচনা করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, জনগণের পাশে থাকতে হবে এবং তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। জনগণকে যদি বোঝানো না যায় যে সরকার ও জনগণ একই দেশ ও ভূখণ্ডের অংশ, তাহলে পরাজয় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি জনগণের সেবা করতে না পারি এবং তাদের বিশ্বাস করাতে ব্যর্থ হই যে আমরা সবাই একই ভূখণ্ড ও দেশের বাসিন্দা, তাহলে আমাদের পরাজয়ই নিয়তি। এমনকি আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি হলেও।”
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের সময় তার পাশে ছিলেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি আয়াতুল্লাহ সায়ীদ হাসান খোমেনি। তিনি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, “মাঝে মাঝে একটি বিচক্ষণ সমঝোতা শত শত যুদ্ধের চেয়েও বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।”
পেজেশকিয়ানের এ বক্তব্যকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি তার আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।