কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম মহানগরের ইপিজেড থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিপিএমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মহোদয়ের নির্দেশনার আলোকে এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) মাজহারুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইপিজেড থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। এ সময় এসআই (নিঃ) মো. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের ইপিজেড থানাধীন ব্যারিস্টার কলেজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একাধিক মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ইপিজেড থানার মামলা নং-৮, তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৬, যার ধারাগুলো হলো—৩৪১, ৩০৭, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩, ২২৫বি, ৪২৭ ও ৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০।
এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানার এফআইআর নং-৪৫, তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০২৪ এবং জিআর নং-১৮৬, একই তারিখের মামলাও রয়েছে। ওই মামলায় পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, ইপিজেড থানার এফআইআর নং-১৫, তারিখ ২২ মার্চ ২০২৩, জিআর নং-৪৩, একই তারিখের মামলায় পেনাল কোডের ৪৬১ ও ৩৮০ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। একই থানার এফআইআর নং-১৬, তারিখ ২২ মার্চ ২০২৩, জিআর নং-৪৪ মামলায় ৪০৭ ও ৩৪ ধারায় মামলা রয়েছে।
এছাড়া ইপিজেড থানার এফআইআর নং-২, তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৪, জিআর নং-৯৩ মামলাটিও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩)/২৫ডি ধারার পাশাপাশি পেনাল কোডের ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ১৫২, ৩০৭, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩৭৯, ৩৮০, ৪২৭, ৪৩৬, ৫০৬(২), ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। একই মামলায় বিস্ফোরক পদার্থ আইন, ১৯০৮-এর ৩ ও ৬ ধারাও উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ইপিজেড থানার এফআইআর নং-৮, তারিখ ১৬ মে ২০২৪, জিআর নং-৫৭ মামলায় পেনাল কোডের ৪৬১, ৩৮০ ও ৪১১ ধারায় অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ইপিজেড থানার এফআইআর নং-৪, তারিখ ৬ আগস্ট ২০২৬-এর মামলায় ৩০৭, ৩২৪, ৩২৩, ৩২৬, ৩৮৫ ও ৩৪ ধারায় মামলা রয়েছে। একই থানার এফআইআর নং-৮, তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৬-এর মামলায় ৩৪১, ৩০৭, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩, ২২৫বি, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযান পরিচালনার বিষয়ে ইপিজেড থানার পুলিশ জানায়, অপরাধ দমনে থানা এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে একাধিক মামলার আসামি, অপরাধী চক্রের সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হতে পারে—এমন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় অপরাধী বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট মামলায় বিধি মোতাবেক আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলাগুলোর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
পুলিশের এ বিশেষ অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ইপিজেড থানা এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।