অনলাইন ডেস্ক:
আনারস একটি সুস্বাদু ও সতেজকর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল। খাবারের পর পরিমিত পরিমাণে আনারস খেলে এতে থাকা ব্রোমেলাইন নামের যৌগ প্রোটিন ভাঙতে সহায়তা করতে পারে। খাবারে থাকা জটিল প্রোটিন অণুগুলোকে তুলনামূলক ছোট অংশে ভাঙার ক্ষেত্রে ব্রোমেলাইন ভূমিকা রাখে।
‘নিউট্রিয়েন্ট’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, আনারস প্রোটিন অণু ভাঙার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। তবে আনারস কখন খাওয়া হচ্ছে, তার ওপর হজম প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। খাবারের আগে পরিমিত পরিমাণে আনারস খাওয়া এবং খাবারের পরে খাওয়ার প্রভাব এক নয়।
আনারসে প্রচুর পরিমাণে ব্রোমেলাইন থাকে। এটি প্রোটিন ভাঙতে সহায়তা করে। ব্রোমেলাইন শুধু আনারসের ফলেই নয়, এর কাণ্ডেও পাওয়া যায়। এ কারণে আনারসের কাণ্ড থেকেও ব্রোমেলাইন সংগ্রহ করে সাপ্লিমেন্ট তৈরি করা হয়।
ব্রোমেলাইন হলো আনারস থেকে পাওয়া বিভিন্ন প্রোটিওলাইটিক এনজাইমের মিশ্রণ, যা প্রোটিন ভাঙার কাজে ভূমিকা রাখে।
মাংস, মাছ, ডিম, দুধজাত খাবার, ডাল ও বিভিন্ন শস্যজাত খাবারে থাকা প্রোটিন শরীরের শোষণের উপযোগী হতে ভাঙতে হয়। ব্রোমেলাইন এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। এর প্রধান কাজ হলো জটিল প্রোটিনকে তুলনামূলক ছোট পেপটাইড ও অ্যামাইনো অ্যাসিডে ভাঙতে সহায়তা করা, যাতে শরীর সেগুলো সহজে শোষণ করতে পারে।
আনারসের সম্ভাব্য উপকারিতা মূলত এর ব্রোমেলাইন, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
পেট ফাঁপা কমাতে সহায়তা করতে পারে:
আনারসে থাকা ব্রোমেলাইন খাবারের প্রোটিন ভাঙতে সহায়তা করতে পারে। ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হজমের অস্বস্তি বা পেট ভারী লাগার অনুভূতি কমতে পারে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়তা করে:
আনারসে খাদ্যআঁশ রয়েছে, যা নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর মলত্যাগে সহায়তা করতে পারে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে:
আনারসে ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। ভিটামিন সি শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যারা বেশি প্রোটিনযুক্ত খাবার খান, তারা খাদ্যতালিকায় পরিমিত আনারস রাখতে পারেন। এ ছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা ফিটনেসের দিকে নজর রাখেন—এমন ব্যক্তিরাও পরিমিত আনারস খেতে পারেন।
বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের মাঝে মাঝে হজমের সমস্যা বা পেট ভারী লাগার অনুভূতি হয়, তারাও পরিমিত পরিমাণে আনারস খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। বড় খাবারের পর মাঝে মাঝে পেট ভারী অনুভব করেন—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আনারস উপকারী হতে পারে।
আনারস সাধারণত খাবার হিসেবে নিরাপদ। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু সমস্যা হতে পারে। যেমন—মুখে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি এবং টক স্বাদের কারণে মুখে সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে।
যাদের আনারসে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত।