নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশব্যাপী নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনের দিক থেকে বড় ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম। এ জেলায় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকায় নিবন্ধন করেছে ৫৯ হাজার ৫৮০ জন। ফলে ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রামে ১ লাখ ২১ হাজার ৫৬০ জন বেশি নিবন্ধন করেছে।
নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ইতিহাস গড়া হবে।
চট্টগ্রামে বিপুলসংখ্যক নিবন্ধনের পেছনে খেলাধুলার প্রতি স্থানীয় মানুষের আগ্রহের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা এবং বিভিন্ন উদ্যোগ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাদের প্রচার-প্রচারণা এবং প্রচেষ্টার কারণেও নিবন্ধনে প্রভাব পড়েছে। নিবন্ধন বাড়াতে মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগের ভূমিকা ছিল কি না জানতে চাইলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, সবার মধ্যেই একটি প্রতিযোগিতার মনোভাব ছিল—কে কত বেশি নিবন্ধন করাতে পারে।
চট্টগ্রামে খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, চট্টগ্রামে খেলাধুলার অনেক আয়োজন রয়েছে। জাতীয় পর্যায়েও এ জেলা থেকে অনেক ভালো খেলোয়াড় উঠে আসেন। ফলে নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবদুল বারী বলেন, শুরু থেকেই জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিকল্পিত প্রচারণার পাশাপাশি উপজেলা, ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ধারাবাহিক সমন্বয় করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একাধিক সভা করার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গেও সভা করা হয়।
তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়েও নিবন্ধন কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়। নির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী ইউনিয়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এসব কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা ক্রীড়া অফিসের কর্মকর্তারাও পুরো কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আবদুল বারী বলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সময়ে সময়ে দেওয়া নির্দেশনা নিবন্ধন বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। নিবন্ধন বাড়ানোর জন্য প্রতিদিনই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে প্রচারণার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রচার চালানো হয়। স্থানীয় সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি ফেসবুকেও প্রতিযোগিতার বিভিন্ন তথ্য প্রচার করা হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকেরাও প্রচারণা ও নিবন্ধন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য অফিসও প্রচারণায় সহযোগিতা করেছে।
এ কার্যক্রমে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা।
জেলাভিত্তিক নিবন্ধনের তালিকায় চট্টগ্রামের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। তৃতীয় অবস্থানে কুমিল্লা, সেখানে নিবন্ধন করেছে ৫১ হাজার ৮৪৮ জন। চতুর্থ স্থানে বরিশাল, এ জেলায় নিবন্ধন করেছে ৫১ হাজার ৫৮০ জন। পঞ্চম স্থানে থাকা পটুয়াখালীতে নিবন্ধন করেছে ৪৯ হাজার ৫৬৫ জন।
শীর্ষ ২০ জেলার তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে দিনাজপুর। সেখানে নিবন্ধন করেছে ৪১ হাজার ৬৯৯ জন। সপ্তম স্থানে সিলেটে ৪০ হাজার ৫৩৬, অষ্টম স্থানে ময়মনসিংহে ৪০ হাজার ৫৪, নবম স্থানে কক্সবাজারে ৩৬ হাজার ৫৪৬ এবং দশম স্থানে বগুড়ায় ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন নিবন্ধন করেছে।
গত আসরে নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আটটি ইভেন্ট থাকলেও এবার আরও দুটি ইভেন্ট যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এবার মোট ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে দল গঠনের পর উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, মার্শাল আর্ট ও টেবিল টেনিসে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।