মোঃ ইসলাম উদ্দিন তালুকদার:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও ঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার সকালে উপজেলার লালপুর বাজারে জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার সমিতির উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার সমিতির সভাপতি হোসেন আহমদ লালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন সমিতির সদস্য ও পাথর ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন, লোকমান হোসেন, কবির হোসেন, নবী নূর, আমিরুল হক এবং বাংলাদেশ কার্গো বাল্কহেড সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমানসহ অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নদীপথে মালামাল লোড-আনলোডের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুটে ৫০ পয়সা হারে একবার শুল্ক আদায়ের কথা রয়েছে। কিন্তু জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ঘাটে লোড ও আনলোডের জন্য পৃথকভাবে প্রতি ঘনফুটে ২ টাকা ৮০ পয়সা করে মোট ৫ টাকা ৬০ পয়সা শুল্ক আদায় করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বক্তারা বলেন, নির্ধারিত হারের তুলনায় অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের ফলে পাথর ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে ব্যবসা পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অতিরিক্ত শুল্ক আদায় অব্যাহত থাকলে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তারা আরও বলেন, জামালগঞ্জের নদীপথ ও বিভিন্ন ঘাটকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী ও শ্রমিক তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে ব্যবসা সংকুচিত হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ওপর। ফলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, নদীপথের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হারে শুল্ক আদায় নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই হাজারো ব্যবসায়ী ও শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং জীবিকা টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তারা।