মোঃআনজার শাহ
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার প্রত্যয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে কুমিল্লার বরুড়ার মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ২০০১ সালে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবারও আয়োজন করা হয়েছে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬।
মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, একটি সুস্থ ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।
৮০ শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তির দ্বার উন্মুক্ত:
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণি মিলিয়ে মোট ৮০টি বৃত্তি প্রদান করা হবে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ১০টি, সাধারণ বৃত্তি ১০টি এবং স্কুলভিত্তিক বৃত্তি ২০টি করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের উৎসাহিত করাই মূল লক্ষ্য।
৫০ নম্বরে মেধার মূল্যায়ন:
মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৫০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে এবং পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ মিনিট। এর মধ্যে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১৫, গণিতে ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান তথা সামাজিক বিজ্ঞানে ১০ নম্বর থাকবে।
আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার সকাল ৯টায় মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের নাম আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে জমা দিতে হবে। পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৫০ টাকা।
মেধার পাশাপাশি সংস্কৃতির চর্চা:
শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশেও গুরুত্ব দিচ্ছেন আয়োজকরা। মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। এতে বালক ও বালিকারা দেশাত্মবোধক গান ও গজল পরিবেশনের সুযোগ পাবে।
আয়োজকদের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীর নাম পিতা-মাতার নামসহ পাঠানো যাবে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের তালিকা সত্যায়িত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।
মেধা খুঁজে বের করাই ২৫ বছরের প্রত্যয়:
স্থানীয় বাসিন্দা তাজিরুল ইসলাম বলেন, মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এ মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের শিক্ষাজীবনে উৎসাহ জোগানো।
তিনি বলেন, শুধু ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে দেওয়া নয়, যারা কোনো কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার পথে, তাদেরও আবার শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনতে উৎসাহিত করা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। সমাজে মেধাবী ও যোগ্য প্রজন্ম গড়ে উঠলে তার সুফল শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজ ও দেশ পাবে।
তাজিরুল ইসলাম আরও বলেন, দীর্ঘদিনের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে এমন মেধা অন্বেষণমূলক আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের প্রতিযোগিতা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।
মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের এবারের আয়োজনের মূল প্রত্যয় ‘মেধার বিকাশে উৎসাহ, শিক্ষার উন্নয়নে অঙ্গীকার।’ ২৫ বছর আগে যে উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা এখন স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রত্যাশিত মেধা অন্বেষণ কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে।
যোগাযোগ:
খোকন চন্দ্র দেবনাথ, প্রধান শিক্ষক, মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ০১৮১৮-৩৮২৪১০
রামকৃষ্ণ, সিনিয়র শিক্ষক – ০১৮১৯-১৬৮২৫২
মো. আবুল কালাম আজাদ, মহিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় – ০১৮১৪-৪৪৫০৩৪
মো. খোরশেদ আলম, মুকুন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় – ০১৮৫৫-৫৫৩৩৪১