আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পেশায় মিস্ত্রি। বিমান চালানোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণও নেই। তবে টেলিভিশনে বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে অনুষ্ঠান দেখে বিমান চালানোর কিছু কৌশল জেনেছিলেন ইয়ানিভ হাইয়ুন। সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগিয়ে ভয়াবহ বিপদের মুহূর্তে একটি বিমানের যাত্রীদের বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দাবি করেছেন তিনি।
দুই দিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিবগামী একটি বিমান বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। ইসরায়েলের অভিযোগ, বিমানের কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত বা ছুরিকাঘাত করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার সময় কয়েকজন যাত্রীর দ্রুত সিদ্ধান্তে বিমানটি বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন ইয়ানিভ হাইয়ুন। পাইলটদের মধ্যে ধস্তাধস্তির খবর পেয়ে তিনি ককপিটে প্রবেশ করেন। তখন বিমানটি খাড়াভাবে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছিল।
ইয়ানিভের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দ্রুত পাইলটের আসনে বসে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। এরপর কন্ট্রোল পেছনের দিকে টেনে বিমানটির অবস্থান সামলে নেন। পরে একজন অফ-ডিউটি পাইলট দায়িত্ব নিয়ে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করান।
ঘটনার পর ইয়ানিভকে অনেকে নায়ক হিসেবে উল্লেখ করছেন। সৌদি আরব থেকে ইসরায়েলে ফেরার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নেতানিয়াহু তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কীভাবে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হলেন।
জবাবে ইয়ানিভ জানান, টেলিভিশনে বিমান দুর্ঘটনা ও উদ্ধার অভিযান নিয়ে অনুষ্ঠান দেখেন তিনি। সেখান থেকেই বিমান নিয়ন্ত্রণের কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলেন। নেতানিয়াহুকে তিনি বলেন, ‘আমি বিমান বিধ্বস্ত অনুসন্ধানের শো দেখি, প্রধানমন্ত্রী।’
ইয়ানিভ আরও জানান, ককপিটের কাছে গিয়ে তারা ক্যাপ্টেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দরজার সামনে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাকে সরিয়ে ককপিটে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় হামলার অভিযোগ ওঠা কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
এরপর ইয়ানিভ পাইলটের আসনে বসে বিমানের কন্ট্রোল পেছনের দিকে টেনে ধরেন। তার দাবি, এতে বিমানটির খাড়া অবস্থায় নিচে নেমে যাওয়ার গতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।