জেলা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের পঞ্চম দফায় আরও ৩৬৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে পাঁচ দফার অভিযানে জেলায় মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া কর্মকর্তা) লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। জেলার ১৮টি থানায় পরিচালিত এ অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত রয়েছে এমন বিভিন্ন স্থান, আড্ডাস্থল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।
পঞ্চম দফার অভিযানে আটক ৩৬৩ জনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে জেলা পুলিশ নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করছে। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে চার দফার অভিযানে ১ হাজার ৬৭২ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদের মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে শুক্রবারের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ‘রতন গ্রুপ’-এর প্রধান মো. রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ২০২২ সালে কুমিল্লা মিশনারী স্কুলের সামনে রতন গ্রুপ ও ঈগল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শাহাদাত হোসেন নামে একজন নিহত হন। ওই হত্যা মামলায় মো. রতনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।