জালালুর রহমান:
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
অভিযোগ ওঠা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তর ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর জাঙ্গীরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উত্তর ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিশিত চন্দ্র মিত্র এবং উত্তর জাঙ্গীরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রানী ভৌমিক।
জানা গেছে, জুড়ী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৮৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে একজন করে প্রধান শিক্ষক এবং একাধিক সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব শিক্ষকের বিদ্যালয়ে আগমন ও প্রস্থানের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক শিক্ষক কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময় উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। এতে বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সম্প্রতি সরেজমিনে ওই দুটি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিশিত চন্দ্র মিত্র, সহকারী শিক্ষক অঞ্জনা রানী দে ও সহকারী শিক্ষক প্রণিমা রানী নাথ সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন।
অন্যদিকে উত্তর জাঙ্গীরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রানী ভৌমিক, সহকারী শিক্ষক সুভাষ দাস, সহকারী শিক্ষক নাজিমউদ্দীন ও সহকারী শিক্ষক কামরুন্নাহার বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শেষ করে ৪টার দিকে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
এলাকার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা হলে তারা অভিযোগ করে বলেন, সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু অনেক শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয় খোলা ও বন্ধ করারও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুড়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসার দিলীপময় দাশ চৌধুরী বলেন, শিক্ষকদের আগমন ও প্রস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মৌলভীবাজার জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনিছুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।