ক্রীড়া কার্ডধারী খেলোয়াড়দের পরিবহন ও বীমা সুবিধা প্রদানে নীতিগত সিদ্ধান্ত: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া কার্ডধারী খেলোয়াড়দের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাত্রার পথ সুগম করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ক্রীড়া কার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। সভায় ক্রীড়া কার্ডধারী খেলোয়াড়দের জন্য গণপরিবহনে ভ্রমণে বিশেষ সুবিধা এবং স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবীমা ও ঝুঁকিবীমা নিশ্চিত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ক্রীড়াকে সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা এবং ক্রীড়াবিদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যেই এই ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ড কেবল সাধারণ কোনো পরিচয়পত্র হিসেবে সীমিত থাকবে না, বরং এর মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের জন্য নানাবিধ রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইভেন্টে ৩২৫ জন নির্বাচিত জাতীয় ক্রীড়াবিদকে এই কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ক্রীড়াবিদদের ভবিষ্যৎ সুসংগঠিত করতে এবং রাষ্ট্রের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এই কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, ডিএমটিসিএল এবং বীমা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্রীড়া কার্ডধারীদের জন্য দেশের সরকারি ও বেসরকারি গণপরিবহনে ছাড়যুক্ত ভাড়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়াকালীন দুর্ঘটনা, উন্নত চিকিৎসা ব্যয় ও সার্বিক জীবনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তাঁদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবীমা ও ঝুঁকিবীমা সুবিধার আওতায় আনার কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন, বিআইডব্লিউটিএ-এর সদস্য মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, ডিএমটিসিএল-এর পরিচালক মোঃ আমিনুর রহমান, জীবন বীমা কর্পোরেশনের জিএম আবু নাইম মোঃ মারুফ খান, বাংলাদেশ নৌপরিবহন মালিক সমিতির মহাপরিচালক ছিদ্দুকুর রহমান পাটোয়ারীসহ পরিবহন খাতের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *