কলাপাড়া প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত হারিচ আহম্মেদ হত্যা মামলার বাদী ও তার ছেলে বাবুল মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু সংলগ্ন টিয়াখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
বাবুল মিয়ার অভিযোগ, কোর্টে মামলার হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে টিয়াখালী এলাকায় তার পথরোধ করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী সঙ্গে থাকলেও তাকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। স্ত্রীর ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে গিয়েও একদল লোক তাকে খুঁজতে থাকলে প্রাণভয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে অন্যত্র চলে যান বলে জানান।
এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন বাবুল মিয়া। একই সঙ্গে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলেও জানান তিনি। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাবুল মিয়ার অভিযোগ, গত ১৯ জুলাই তার বাবা হারিচ আহম্মেদকে পিটিয়ে ও কাদা পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ সময় তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে বাবার হত্যার বিচার চেয়ে ২১ জুলাই তিনি একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছেন বলে অভিযোগ করেন বাবুল মিয়া। তিনি বলেন, কলাপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় তাকে ডেকে নিয়ে মামলা তুলে নিয়ে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে।
বাবুল মিয়া আরও বলেন, রোববার সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু সংলগ্ন টিয়াখালী এলাকায় তার পথরোধ করে হামলা চালানো হয়। হত্যা মামলার আসামি জসীম খন্দকারের নেতৃত্বে খলিলসহ কয়েকজন তাকে মারধরের সময় বারবার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় কোর্টের জিআরওর কাছে গেলে সেখান থেকে তাকে কলাপাড়া থানায় পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
বাবুল মিয়ার স্ত্রী সীমা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানেও একদল লোক তাকে খুঁজতে থাকে। পরে প্রাণভয়ে কৌশলে স্বামীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। রাতে তারা আবারও হাসপাতালে আসে বলেও দাবি করেন তিনি।
সীমা বেগম বলেন, তার স্বামীর জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। যেকোনো সময় তার শ্বশুরের মতো তাকেও হত্যা করার চেষ্টা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হত্যা মামলার আসামি জসীম খন্দকার। তিনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি কৃষি খেতে কাজ করছিলেন। এর প্রমাণ পুলিশের কাছে রয়েছে। তাকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, হারিচ আহম্মেদের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন মৌখিকভাবে অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মারামারির বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি। বাবুল মিয়া চাইলে আদালতে মামলা করতে পারেন বলে জানান তিনি।