মোঃ আনজার শাহ
দীর্ঘ সতেরো বছরের জমাট বেদনা, অপমান আর নিপীড়নের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে কুমিল্লার বরুড়ার ঝলম ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম। তিনি বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে অন্য যেকোনো এলাকার তুলনায় এই ইউনিয়নের মানুষ অনেক বেশি নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
ঝলম ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কায়সার আলম সেলিম বলেন, ‘সামনে বসা অনেক ভাই আছেন, যাঁরা শারীরিকভাবে অপমান-অপদস্থ হয়েছেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেদিন সমগ্র বরুড়ার মানুষ ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে জাকারিয়া সুমনকে এক লাখ ২৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করেছেন।
সম্প্রতি মন্ত্রীর পরামর্শে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, বরুড়ার সবাই মিলেমিশে একসঙ্গে থাকতে চায় এবং সবার জন্য দলের দ্বার উন্মুক্ত। তবে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, যাঁরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতি করেছেন, তাঁদের স্থান এই দলে হবে না। ‘আমি তো আমার ভাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করতে পারি না’ বলেন তিনি।
বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, এই সময়ে মন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্ত বরাদ্দ ১৫টি ইউনিয়নে সমানভাবে বণ্টনের চেষ্টা করা হয়েছে। এখন প্রতিটি ইউনিয়নের বরাদ্দ ওয়ার্ডগুলোতে সমভাবে বণ্টনের দায়িত্ব স্থানীয় নেতৃবৃন্দের।
ঝলম ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, চেয়ারম্যান ও উপজেলা উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইউনিয়নের নামে যে বরাদ্দ আসবে, তা নয়টি ওয়ার্ডে সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই সতেরো বছরের স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্টদের মতো আচরণ করা যাবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বরাদ্দ নিজেদের লোকজনের মধ্যে ভাগাভাগি করে ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। এমন কিছু ঘটলে জাকারিয়া সুমন তা বরদাস্ত করবেন না বলেও জানান তিনি।