আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফিলিপাইনে বিমানবাহিনীর দুটি প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজের মাঝ আকাশে সংঘর্ষে চার পাইলট নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে দেশটির বাতানগাস প্রদেশের লিপা শহরের ফার্নান্দো বিমানঘাঁটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত উড়োজাহাজ দুটি এসএফ-২৬০ সিরিজের প্রশিক্ষণ বিমান। সংঘর্ষের পর বিমান দুটি বিমানঘাঁটির ভেতরে বিধ্বস্ত হয়। এতে উভয় বিমানে থাকা চার পাইলট ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনায় বিমানঘাঁটির অন্য কোনো ব্যক্তি হতাহত হননি। তবে একটি বিমান সামরিক সদস্যদের আবাসিক ব্যারাকের কাছাকাছি গিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।
ফিলিপাইন বিমানবাহিনী ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে কী কারণে বিমান দুটি সংঘর্ষে জড়িয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত চলাকালে বিমানবাহিনীর বহরে থাকা অবশিষ্ট এসএফ-২৬০ সিরিজের বিমানগুলোর উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
এসএফ-২৬০ বিমানের আগের দুর্ঘটনা
ফিলিপাইন বিমানবাহিনীর এসএফ-২৬০ সিরিজের বিমান নিয়ে এর আগেও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় বেঙ্গুয়েত প্রদেশে নেভিগেশন প্রশিক্ষণের সময় একটি এসএফ-২৬০ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় বিমানে থাকা দুই পাইলট নিহত হন।
২০২৩ সালেও প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় একই সিরিজের একটি বিমান বাতানগাস প্রদেশে ধানের জমিতে বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায়ও দুই পাইলট প্রাণ হারান।
সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ফিলিপাইন সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে দেশটির বিমান, নৌ ও স্থলবাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ মোকাবিলার পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরে আঞ্চলিক বিরোধ ঘিরে চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাও সামলাতে হচ্ছে ফিলিপাইনকে।