কুইক রেন্টালের প্রভাবে বিদ্যুৎ পরিকল্পনা এলোমেলো হয়েছে: জ্বালানিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৭ বছরের অপরিকল্পিত কুইক রেন্টাল নীতির কারণে বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, অতীতের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দেশকে আরও দীর্ঘ সময় ভুগতে হতে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণ বুঝতে হলে অতীতের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করতে হবে। বাস্তব পরিস্থিতির কারণেই লোডশেডিং হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও সক্ষমতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ বা পরিবর্তন করার মতো পরিস্থিতি নেই। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিলে ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ে তৎপর হতে পারে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে থাকলেও সেগুলোর জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ কেনা ও জ্বালানি সরবরাহেও সংকট রয়েছে।

এলএনজি আমদানির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগে কাতারের ওপর নির্ভরশীলতা ছিল। বোমা হামলার কারণে কাতার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একসময় ১০ থেকে ১২ ডলারে কেনা এলএনজি ৩০ ডলার দিয়ে কিনতে হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে সরবরাহ অব্যাহত রাখা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহে সন্তোষজনক পরিস্থিতি রয়েছে, এমন দাবি তিনি করবেন না। বিদ্যুৎ খাতে বিশাল ঘাটতি রয়েছে এবং এ খাতে আর্থিক চাপ বাড়ছে।

গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, অনেক এলাকায় যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় বিদ্যুতের লাইনে ত্রুটি শনাক্ত করতে দুই থেকে তিন দিন লেগে যায়। এতে লোডশেডিং দীর্ঘায়িত হয়। তবে এসব কারিগরি সীমাবদ্ধতা অনেক সময় মানুষ বুঝতে চায় না।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এ বিষয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এ খাতে উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেছেন বলেও জানান তিনি। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে আগামী সোমবার থেকে সোলার এক্সিবিশন শুরু হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

দেশের গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূগর্ভে বিপুল সম্পদ রয়েছে। কিন্তু গত ১৭ বছরে একটি কূপও খনন করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, এ সময়ের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে আগামী ৫০ থেকে ৬০ বছরও ভুগতে হতে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সরকারি খাতে ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গত ১৭ বছরে তা পরিবর্তন করে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ প্রায় ৭০ শতাংশে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের কার্যক্রম তদারকি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিটি ছোট বিষয় সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে হয় না। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত এমআইএস প্রতিবেদন পাঠানো হয়। কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার খবর পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কারণ খতিয়ে দেখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি সামনে আসে।

বিশেষ জ্বালানি আইন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী সংসদ অধিবেশনে আইনটি চূড়ান্ত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *