মোঃআনজার শাহ
সৈকতের নগরী কক্সবাজারকে পরিকল্পিত, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি। তিনি বলেছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখে সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় কক্সবাজারের সার্বিক উন্নয়ন, সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় কক্সবাজারের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পর্যটন সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটননির্ভর এলাকার টেকসই উন্নয়নসহ নগর ব্যবস্থাপনার নানা দিক নিয়ে কথা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার কেবল দেশের পর্যটন রাজধানীই নয়; এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সামুদ্রিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক অনন্য জনপদ। তাই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরের অবকাঠামো, যোগাযোগ, আবাসন ও পর্যটন সুবিধা আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রসৈকত, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে কক্সবাজারকে আরও আকর্ষণীয় ও বাসযোগ্য নগরে পরিণত করা সম্ভব হবে।
মতবিনিময় শেষে প্রতিমন্ত্রী কউকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হন।
পরে তিনি প্রকল্প এলাকায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সদস্য (প্রকৌশল) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত, পিপিএম, ইঞ্জিনিয়ার্স, উপনগর পরিকল্পনাবিদ মো. তানভীর হাসান রেজাউল এবং সচিব (উপসচিব) সানজিদা বেগম।
এ ছাড়া কউকের অন্য কর্মকর্তা এবং কক্সবাজার গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কক্সবাজার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পর্যটন, বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতির সম্ভাবনা আরও প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।