সাতকানিয়ায় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন

আব্দুল আজিজ আল মাক্কী:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিনব্যাপী হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাহফিযুল কুরআন রিসার্চ সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চারটি বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আফজল নগর এসডিএফ দাখিল মাদ্রাসা মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশের সাতবাড়িয়া দরবার শরিফের পীর আলহাজ মাওলানা শাহ আব্দুল হালিম রশীদী (ম.জি.আ.)।

অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা করেন পতেঙ্গা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুল হাসান, ছৈয়দাবাদ দুদুফকির আহমদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রশীদ কাদেরী এবং আধুনগর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার মুফাসসির মাওলানা মুর্শিদুল আলম।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উলামায়ে কেরাম এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ আবু জাফর শাকিল।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে চারটি পৃথক বিভাগে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিজয়ী ও কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পবিত্র কুরআনের আলোয় সমাজকে আলোকিত করতে এবং শিশু-কিশোরদের হৃদয়ে কুরআনের প্রতি ভালোবাসা ও অনুরাগ সৃষ্টি করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং নতুন প্রজন্মকে কুরআন শিক্ষায় উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এমন প্রতিযোগিতা ইতিবাচক অবদান রাখবে বলেও তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বক্তারা হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষামূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *