স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর ডেমরা থানাধীন এলাকায় ‘হোটেল আবুল কালাম’-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এভাবে অনুমোদনহীন গ্যাস ব্যবহার করা হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে হোটেলটির রান্নাঘর ও খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।
অভিযোগকারীদের দাবি, হোটেলটির মালিক আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে রান্নার কাজ পরিচালনা করছেন। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বৈধ সংযোগ ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে গ্যাস ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও হোটেলটিতে তা মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের কয়েকজনের অভিযোগ, হোটেলটির রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের স্থান অপরিচ্ছন্ন। খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের পরিবেশ নিয়েও তাঁদের আপত্তি রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করা হলে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ বা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শন প্রয়োজন।
এদিকে, হোটেলটির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হলে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, হোটেল-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়গুলো সামনে আনতে গেলে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
অভিযোগে হোটেলটির মালিক আবুল কালামকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আবুল কালামের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় হোটেলটিতে গ্যাস সংযোগ বৈধ কি না, গ্যাসের বিল নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে কি না এবং রান্না ও খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিযোগকারীরা।
তাঁদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।