খুলনায় ধারালো অস্ত্রের হামলায় তাঁতীদল নেতা হুমায়ুন কবির নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খুলনা মহানগরীতে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় নিহত হয়েছেন তাঁতীদল নেতা সৈয়দ হুমায়ুন কবির। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হুমায়ুন কবির ওই এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। তিনি তাঁতীদল খুলনা মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে তাঁর ‘ইল ক্যান্টিন’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় হুমায়ুন কবির নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও চাপাতি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানোর পাশাপাশি বুকে আঘাত করে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, হুমায়ুন কবির একটি ফ্রিজ বাকিতে কিনেছিলেন। ওই ফ্রিজের টাকা আদায়ের জন্য ঘটনার দিন বিকেলে চার যুবক তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আসে। এ সময় তাঁদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হলে যুবকরা সেখান থেকে চলে যায়। পরে সন্ধ্যায় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফিরে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তাঁতীদল খুলনা মহানগর শাখার আহ্বায়ক আবু সাইদ জানান, নিহত হুমায়ুন কবির তাঁদের সংগঠনের মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা উদ্‌ঘাটনে পুলিশের তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *