মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ‘হামেশা ফুড লিমিটেড’ ও ‘কাশ্মীর গ্রুপ’ কারখানায় পরপর দুই রাতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতি হওয়া বিপুল পরিমাণ তামার তার, নগদ টাকা এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে অজ্ঞাতনামা একদল ডাকাত সোনারগাঁও থানাধীন ‘হামেশা ফুড লিমিটেড’ কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে তামার তার, মনিটর ও মোবাইল ফোন লুট করে পিকআপে করে পালিয়ে যায়। এর পরের রাত, অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে একই ডাকাত দল একই কায়দায় ‘কাশ্মীর গ্রুপ লিমিটেড’ কারখানায় হানা দিয়ে তামার তারসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদী ও ‘বি’ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষের সহযোগিতায় বিশেষ তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।
সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএম এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এসআই শেখ পারভেজ বিন কামাল চৌধুরী, এসআই রিফাত উদ্দিন ও এসআই এবিএম গোলাম কিবরিয়াসহ সঙ্গীয় ফোর্সের সমন্বয়ে দুটি চৌকস দল গঠন করা হয়।
দল দুটি ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজু (৩০), পিতা জলির মাতবর, সাং নগরবোয়ালিয়া, থানা জাজিরা, জেলা শরীয়তপুর। তাকে ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবু সাঈদ ওরফে মোল্লা (৩৯), পিতা আবুল আইশ, সাং দড়িমাছুমপুর, থানা তিতাস, জেলা কুমিল্লা। তাকে টঙ্গী পূর্ব থানার আনারকলি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাছের মিয়া (২৫), পিতা মান্নান, সাং কুরদোনাপাড়া, থানা মাধবদী, জেলা নরসিংদী; অনিল বাবু (৩৫), পিতা কৃষ্ণ মোহন, সাং মালিরচারা, থানা ঘাটাইল, জেলা টাঙ্গাইল এবং ইমন হাসান ওরফে রাশেদুল (২৮), পিতা হোসেন, সাং সেনপাড়া, থানা কালীগঞ্জ, জেলা গাজীপুর। বাকি তিনজনকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ২০০ কেজি তামার তার, যা ৩০০ আর-এর ৪৪০ মিটার ক্যাবলের কভার থেকে ছাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি খোলা পিকআপ, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-২০-৬৮৫৮, লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির নগদ ৯৩ হাজার টাকা এবং একটি তামার ববিন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজুর বিরুদ্ধে আগে থেকেই ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া অনিল বাবুর বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ মোট ছয়টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
গত ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে গ্রেপ্তারকৃতদের পুলিশ পাহারায় আদালতে পাঠানো হয়। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজু এবং আবু সাঈদ ওরফে মোল্লা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পুলিশ আরও জানায়, ডাকাত চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।