মোঃ আনজার শাহ
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ১৩ নম্বর আদ্রা ইউনিয়নে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাতে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ১৩ নম্বর আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাকিবুল হাসান লিমনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজনটি পরিণত হয় প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে।
সাফল্যের সঙ্গে নৈতিকতার বন্ধন:
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্য শুধু তাঁদের পরিবারকে আনন্দিত করে না; এটি একটি সমাজের অগ্রযাত্রারও প্রতিচ্ছবি। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আজ যারা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে, আগামী দিনে তারাই দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাই ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
ইউএনও আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে পরিবার ও শিক্ষকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে শিক্ষার্থীরা যেন মানুষের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগাতে পারে, সে পরিবেশ তৈরিতে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অন্যদের স্বপ্ন দেখাবে এই সাফল্য:
সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান মো. রাকিবুল হাসান লিমন বলেন, আদ্রা ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরীক্ষায় ভালো ফল করে যে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে, তা পুরো ইউনিয়নের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁদের এ সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও আগ্রহী করে তুলবে।
তিনি বলেন, “কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করার উদ্দেশ্য শুধু তাঁদের পুরস্কৃত করা নয়; তাঁদের সাফল্যকে সামনে রেখে অন্যদেরও স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করা। আমরা চাই, আদ্রা ইউনিয়নের প্রতিটি শিক্ষার্থী জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের সেবায় এগিয়ে আসুক।”
চেয়ারম্যান আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। একটি ছোট্ট স্বীকৃতিও একজন শিক্ষার্থীর মনে বড় স্বপ্নের বীজ বপন করতে পারে।
শিক্ষাই উন্নত সমাজের ভিত্তি:
১৩ নম্বর আদ্রা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. আবুল বাশার বলেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা। আজকের কৃতি শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসক ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা সমাজের সবার দায়িত্ব। তাঁদের সাফল্যে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। এই অর্জন ধরে রাখতে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে ইতিবাচকভাবে পাশে থাকতে হবে।
ডা. আবুল বাশার আরও বলেন, মেধার সঙ্গে নৈতিকতা ও মানবিকতার সমন্বয় ঘটলেই একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত অর্থে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
‘শিক্ষাই আলোকিত করুক ভবিষ্যৎ’ এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, মেধা ও সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করার এক ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। বরুড়ায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে এ ধরনের আয়োজনের খবর সাম্প্রতিক সময়েও প্রকাশিত হয়েছে।