আমির হোসেন:
আসন্ন আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (আইবিও)-তে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন। আগামী ১২ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ইউরোপের দেশ লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে ৩৭তম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাবাহী দলের হয়ে তিনি বিশ্বের আশিটিরও বেশি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে মেধার লড়াইয়ে অংশ নেবেন।
ইয়াছিন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের মো. আল আমিন হাওলাদারের ছেলে এবং বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
এর আগে ইয়াছিন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (বিডিবিও) কর্তৃপক্ষের অধীনে সারা দেশ থেকে রেজিস্ট্রেশনকৃত ও বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ১৫ হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে জাতীয় পর্যায়ে বাছাইকৃত ২০ জনের তালিকায় নিজের স্থান করে নেন। তাদের মধ্য থেকে তিনি মাস্টার ক্যাম্পার হিসেবে নির্বাচিত হন ১০ জনের মধ্যে।
চূড়ান্ত বাছাই পর্বে ওই ১০ জনের মধ্য থেকে বাংলাদেশ জাতীয় জীববিজ্ঞান দল-২০২৬ গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের জন্য ৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয়। ইয়াছিন ওই চারজনের একজন।
বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি)-এর উদ্যোগে ১৩ মে বুধবার সাভারের এনআইবিতে বায়োক্যাম্প-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়। বায়োক্যাম্পে এনআইবির বিজ্ঞানী ও গবেষক এবং জীববিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বাংলাদেশ জাতীয় জীববিজ্ঞান দল গঠনের বাছাই পর্ব গত ১৬ মে শনিবার শেষ হয়।
ইয়াছিন জানান, তিনি বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (গোল্ডেন এ প্লাস) পেয়ে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ তিন বছরের সাধনার পর এবার বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন। আল্লাহর কাছে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে জীববিজ্ঞানী হতে চান বলেও জানান।
তিনি বলেন, নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন ‘বিজ্ঞান চিন্তা’ নামের একটি ম্যাগাজিন পড়ে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (বিডিবিও) সম্পর্কে জানতে পারেন। সেখান থেকেই তিনি নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেন। টেক্সটবুকের বাইরে জীববিজ্ঞান যে এতটা আকর্ষণীয় হতে পারে, তা তখনই তিনি বুঝতে পারেন। তিনি আরও জানান, জীববিজ্ঞানের অনেক মজাদার বই ইংরেজিতে হওয়ায় প্রথমে তাকে ইংরেজি শেখার ওপর গুরুত্ব দিতে হয়েছে। তিনি আগ্রহীদের জন্য ‘ক্যাম্পবেল বায়োলজি’ বইটি পড়ার পরামর্শ দেন, যাকে তিনি “বাইবেল অব বায়োলজি” হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্বমঞ্চে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি সকলের দোয়া কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী ইয়াছিন আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করায় তিনি গর্বিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কৃতি শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।