স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার ধামরাই থানাধীন কাকরান এলাকায় একটি আবাসন প্রকল্পে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও চাঁদা না দেওয়ায় প্রকল্পের ম্যানেজারসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় প্রকল্পের ম্যানেজার মোহাম্মদ শাহিন মিয়াসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ধামরাইয়ের কাকরাইল ব্রিজসংলগ্ন খালি জমির প্লটে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকার আশুলিয়া থানার মির্জানগর এলাকার নান্নু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শাহিন মিয়া ধামরাইয়ের কাকরাইল এলাকার ওই আবাসন প্লটের ম্যানেজার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে বিবাদীরা দলবল নিয়ে ওই প্লটে এসে ম্যানেজার শাহিন মিয়ার কাছে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
ভুক্তভোগী শাহিন মিয়া চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এ সময় প্রকল্পে কর্মরত অন্য কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা শাহিন মিয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাঁদের ওপরও আক্রমণ চালায়।
এতে ম্যানেজার শাহিন মিয়াসহ প্রকল্পের অন্তত ৫ জন কর্মী রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা প্রকল্পের মালপত্র ভাঙচুর ও বড় অঙ্কের ক্ষয়ক্ষতি করে এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ধামরাইয়ের কাকরাইল (জামাইপাড়া) এলাকার মৃত সোহরাবের ছেলে মোহাম্মদ রুবেল (১) এবং কাকরাইল হালুয়াপাড়া এলাকার শুকুর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম হৃদয়কে (২) আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন—কাকরাইল টিঙ্গড়িয়াপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে রনি (৩), মৃত কুদ্দুসের ছেলে হাবিবুর (৪), সুনু বেপারীর ছেলে উজ্জল (৫), মাঝির দুই ছেলে নজরুল (৬) ও আতিকুল (৭), বজলুর রহমানের ছেলে আরিফুল (৮), মুন্নার ছেলে ইমামুল (৯) এবং মৃত কাশির ছেলে আবুল (১০)। এজাহারে এই ১০ জন নামধারী সন্ত্রাসী ছাড়াও আরও অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আক্রান্তদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও বাদী মোহাম্মদ শাহিন মিয়া ন্যায়বিচার এবং আইনগত সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, এই সন্ত্রাসী চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।