আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইবোলা রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সচেতনতামূলক রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর কঙ্গোতে ক্ষমতাসীন দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) উত্তর কিভুর বুতেম্বো শহরে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার ক্ষমতাসীন দলের এক প্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নেতার নাম মারি-সেলেস্তাঁ কারোন্দওয়া। তিনি বুতেম্বোতে ক্ষমতাসীন ইউডিপিএস দলের ফেডারেল নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দলটির বুতেম্বো ফেডারেশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ইবোলা নিয়ে সচেতনতা তৈরির একটি রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নেন কারোন্দওয়া। অনুষ্ঠানে তিনি ইবোলা প্রতিরোধে করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, অনুষ্ঠান শেষে নিজের এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা তার ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা তাকে মারধর করার পাশাপাশি সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যায়। পরে তার বাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় কারোন্দওয়ার মৃত্যু হয়।
তবে হামলাকারীরা কারা, কতজন এতে অংশ নিয়েছিল কিংবা হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ কী—তাৎক্ষণিকভাবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বুতেম্বোর মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কারোন্দওয়ার দল দাবি করেছে, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। ইবোলা ভাইরাসের অস্তিত্ব এবং এ রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি দলের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইবোলা মোকাবিলায় কাজ করা দলগুলোর ওপর হামলার সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে কারোন্দওয়ার হত্যাকাণ্ডকে দেখা হচ্ছে। কঙ্গোতে ইবোলা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর্মীরা সচেতনতামূলক কার্যক্রম, রোগ শনাক্তকরণ এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছেন। তবে এসব কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ও অবিশ্বাস রয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্যকর্মী ও ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত অন্যান্য দলের কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর কিভুর কাছের বেনি এলাকায় শনিবার একটি হাত ধোয়ার কেন্দ্রে সশস্ত্র ব্যক্তিরা হামলা চালায় বলেও জানা গেছে। স্থানীয় একটি নাগরিক সংগঠনের দাবি, ওই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কঙ্গোতে বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয় গত ১৫ মে। সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৬৭ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৩ হাজার ৯০১ জন। উত্তর কিভুর বুতেম্বো ও আশপাশের এলাকাগুলো বর্তমানে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের অন্যতম বেশি আক্রান্ত অঞ্চল।
এর মধ্যেই ইবোলা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির একটি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পর ক্ষমতাসীন দলের নেতাকে হত্যার ঘটনায় রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রমে স্থানীয় মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।