মোঃআনজার শাহ
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সহযাত্রার উষ্ণ স্মৃতিকে নতুন করে ছুঁয়ে দেখার এক আন্তরিক উপলক্ষ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোন্দকার মোহাম্মদ মোরতাজুল করিম বাদরুর সঙ্গে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মামুন হাসানের সৌজন্য সাক্ষাৎ। যুবদলের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মামুন হাসান সম্প্রতি বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনে গিয়ে চেয়ারম্যান বাদরুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে দুজন পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও সামাজিক অগ্রগতির নানা বিষয়ে তাঁদের মধ্যে খোলামেলা মতবিনিময় হয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের উষ্ণতায় এই মিলনমেলা পরিণত হয় আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের এক সুন্দর মুহূর্তে।
নতুন দায়িত্বে মামুন হাসান:
উল্লেখ্য, মো. মামুন হাসানকে সাম্প্রতিক সময়ে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাদরুর প্রত্যাশা: “জনকল্যাণে ইতিবাচক অবদান রাখাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি”:
সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে খোন্দকার মোহাম্মদ মোরতাজুল করিম বাদরু বলেন, “প্রিয় সহযোদ্ধা, যুবদলের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জনাব মামুন হাসানের সঙ্গে আমার কর্মস্থল বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনে সৌজন্য সাক্ষাৎ সত্যিই একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষ ও সহযোদ্ধার সঙ্গে দেখা হলে স্মৃতির পাতায় জমে থাকা নানা অধ্যায় যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে এটাই প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, “দেশ ও মানুষের কল্যাণে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখাই আমাদের সবার প্রত্যাশা। জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
স্মৃতিময় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি:
সাক্ষাতের এই মুহূর্তে দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের এক নির্মল আবহ। পরে তাঁরা স্মৃতিময় এই সাক্ষাতের মুহূর্তটিকে ক্যামেরাবন্দি করেন। বাদরুর ভাষায়, এটি কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না; বরং দীর্ঘদিনের সহযাত্রা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও হৃদ্যতার বন্ধনকে নতুন করে স্মরণ করার একটি সুন্দর উপলক্ষ।
পটভূমি: দুজনই যুবদলের প্রাক্তন নেতা:
খোন্দকার মোরতাজুল করিম বাদরু কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। সে সময় যুবদলের সভাপতি ছিলেন সাইফুল আলম নীরব এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। এর আগে মোরতাজুল করিম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে ছিলেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হয়ে মনোনয়ন চাইলেও সে সময় দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। সরকারের নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এবার তাকে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সাধারণ পরিষদ ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, মামুন হাসানও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদকীয় মন্তব্য: দুজন প্রাক্তন যুবদল নেতার এই হৃদ্য সাক্ষাৎ কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কেরই নয়, বরং দেশের জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে থেকে একযোগে কাজ করার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।